আমার সংগঠন দ্বারা সরাসরি ১৩ হাজার মানুষ উপকার পেয়েছে : সুমাইয়া শিমু

1

বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি সেনোরার রোল মডেল নির্বাচিত হয়েছেন সুমাইয়া শিমু। কেন এই প্রশ্নের উত্তর জানার চেয়ে জরুরি হলো কী নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। সুমাইয়া শিমু তুমুল দাপিয়েছেন টেলিভিশন চ্যানেলগুলো, একটা সময় নারীর কেন্দ্রীয় চরিত্রে তার বিকল্প খুঁজে পাওয়াই মুশকিল ছিল। এখন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীদের ভবিষ্যতের উৎকর্ষতা নিয়ে। তবে অভিনয়টা নিয়মিতই করতে চান। শিমুর ভাষ্য, ‘অভিনয়ের মাধ্যম দিয়ে মানুষের কাছাকাছি যত তাড়াতাড়ি পৌঁছা যায় আর কোনো মাধ্যমে এত দ্রুত পৌঁছা সম্ভব নয়।’

করোনার সময়টায় গোটা পৃথিবী যখন স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখন স্তব্ধ হতে হয় তাঁকেও। হাতে একটা নাটকের কাজ ছিল, সেটা অসম্পূর্ণ রেখেই ঘরবন্দি হতে হয়েছিল। কুয়াশা কেটে যাওয়ার মতো করে একসময় পৃথিবী থেকে করোনার আতঙ্ক কেটে যেতে শুরু করল, না তখনো স্বাভাবিক হয়নি পৃথিবী। কিন্তু মানুষের দুরবস্থা চোখে পড়ল। ভাবলেন। এরপর নিজের হাতে গড়া সংগঠন নিয়ে নেমে পড়লেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ‘বেটার ফিউচার ফর উইমেন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন সুমাইয়া শিমু। যেটা নিয়ে নারীদের পাশাপাশি মহামারিতে সবার জন্য কাজ করেছেন, করে যাচ্ছেন এখনো।

সুমাইয়া শিমু বলেন, ‘চাকরিহারা, কর্মহীন মানুষ, বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন কর্মহীন হয়ে পড়ছে- এটা আমাকে প্রচণ্ডভাবে ভাবাল। নানাভাবেই পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বুঝলাম, একটা দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে হবে এর জন্য। কমনওয়েলথের সঙ্গে যৌথভাবে একটা প্রোজেক্ট শুরু করলাম। কমনওয়েলথ অব লার্নিং কোর্সের অধীনে ওয়ার্কফোর্স রিকভারি প্রগ্রাম শুরু হলো। এটা কমনওয়েলথ সারা বিশ্বের ১৪টি দেশের সঙ্গে করছে। বাংলাদেশে আমাদের সংগঠন বেটার ফিউচার ফর উইমেনের সঙ্গে কাজ করছে। যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ১৩ হাজার মানুষ সরাসরি উপকার পেয়েছে।’

হঠাৎ করেই সংগঠন কেন? প্রশ্নের জবাবে সুমাই শিমু বলেন, ‘আমি আমার তারকাখ্যাতিকে কিছুটা কাজে লাগিয়েছি বলতে পারেন। অভিনয় আমার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। যত দিন বেঁচে থাকব অভিনয়টাই করে যাব। হয়তো কাজ কম হবে, কিন্তু অভিনয়কে আঁকড়ে ধরে রাখা ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব না। অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি মানুষ আমাকে কী পরিমাণ ভালোবাসে। অভিনয়টা এমন একটা মাধ্যম, যার দ্বারা খুব সহজেই মানুষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়। মানুষ ভাবে আমরা তার কত দিনের চেনা। ঠিক আমিও মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তবে কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার অনুভূতি তো সুখকর হয় না সব সময় হয়তো। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। সমাজের সর্বত্র পিছিয়ে রয়েছেন নারীরা। এমনটা মনে করেন এই গুণী অভিনেত্রী। শিমু বলেন, আমার মনে ভেতরে ভেতরে কিছু করার তাগিদ তৈরি হয়। বলতে গেলে অভিনয় থেকে আমি এই জায়গাটায় পৌঁছে গেলাম, মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা হলো। যার ফলে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে ফেললাম। না, খুব বড় কিছু করে ফেলিনি। তবে মানুষকে পাশে পাচ্ছি। এই কভিডের সময়টাকে কাজে লাগাতে পেরেছি। সামনে হয়তো আরো বড় হতে পারে এই সংগঠন। দেখা যাক।’

আর অভিনয়? হ্যাঁ, সেটি তো থাকবেই, সেটি করবই। অকপটে বললেন সুমাই শিমু। তার পরেই একটু দম নিয়ে বললেন, যেহেতু পড়াশোনার বড় একটা চাপ সামলে অভিনয় করে গেছি। এমফিল সম্পন্ন করেছি। থিসিসের চাপ নিয়েও অভিনয় করেছি। পিএইচডি সম্পন্ন করেছি আর সংগঠনের পাশাপাশি অভিনয় করতে পারব না?

বর্তমান সময়ে মিডিয়ার পরিবর্তন নিয়ে কথা বলুন, ‘এখন তো অনলাইনকেন্দ্রিক অভিনয়টা চলে যাচ্ছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জায়গা দখল করে নিয়েছে। এটা নিয়ে আমার চিন্তা সেভাবে পরিষ্কার ছিল না। এখন বুঝেছি এটা একটা শক্তিশালী মাধ্যম। চিন্তা করেছি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করব। ভালো ও শক্ত গাঁথুনির গল্প পেলে এই জায়গাটিতে নিয়মিত কাজ করব।’

ও হ্যাঁ, শিমুর এই সামগ্রিক কাজের জন্য সেনোরা রোল মডেল নির্বাচিত করা হয়েছে তাঁকে।

১৯৯৯ সাল থেকে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করছেন সুমাইয়া শিমু। শিমুর জন্ম ও শৈশব কাটে নড়াইলে। তাঁর পিতা আতিয়ার রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মাতা লায়লা রহমান একজন গৃহিণী। শিমু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতিবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যকলায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

শিমুর টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় ১৯৯৯ সালে। ‘এখানে আতর পাওয়া যায়’ নাটক দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। শিমু ২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here