ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা করে তারই কার্যালয়ের মালি: পুলিশ

1

অনলাইন ডেস্ক : সরকারি বাসভবনে ঢুকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা চালিয়েছে ইউএনওর কার্যালয়েরই এক মালি। তিনি প্রাথমিকভাবে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

এ সময় দিনাজপুরে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচীন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমাম জাফরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর রবিউলকে আটক করা হয়। তিনি বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের খতিব উদ্দীনের ছেলে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মালি পদে নিযুক্ত ছিলেন। ৫০ হাজার টাকা চুরি করার অপরাধে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিউল ইসলাম নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সরকারি কর্মচারীকে আমরা আটক করেছি। তার দেওয়া তথ্যে মই ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, আটক রবিউল প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হামলার ঘ্টনায় নিজের দায় স্বীকার করেছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছি। এছাড়া তার বক্তব্য ও জব্দ করা সিসিটিভ ফুটেজের সাথে মিল পাওয়া গেছে। আমরা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে তার রিমান্ড আবেদন করব।

প্রেস ব্রিফিং শেষে আটক রবিউল ও এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আসাদুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলাম ৭ দিন ধরে রিমান্ডে ছিলেন। শনিবার পুলিশের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এছাড়াও ইউএনওর বাসভবনের নৈশ্যপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় রবিউল ইসলামকে আটক করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ইউএনও ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন।

এই হামলার ঘটনায় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে দিনাজপুর জেলা ডিবি তদন্ত করছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও র‌্যাব তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here