ইতালিতে ফের বাড়ছে করোনার সংক্রমণ, শঙ্কা প্রবাসীদের

5

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃতদের নগরীতে পরিণত হয়েছিল দেশটির বেশ কয়েকটি শহর। কম করে হলেও ৮০০ থেকে এক হাজার মৃত্যুর খবর পাওয়া যেত প্রতিদিন। সেই অবস্থা থেকে ফিরেছে ইতালি, কিন্তু বাদ যায়নি শঙ্কা। ফের দেশটিকে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। তবে এবার চিন্তা বেশি সেখানকার প্রবাসীদের নিয়ে।

লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকেই ইতালিতে ধীরলয়ে সংক্রমণ প্রভাব ফেলছে। তবে সম্প্রতি দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অবশ্য আগেই করোনাভাইরাস দ্বিতীয় ধাপে হানা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক আক্রান্ত ও মৃতে নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে ইতালি সরকারকে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৯৬ জন। এ দিন মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। সোমবার দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৮৮৩ জন।

দেখা যাচ্ছে, প্রবাসীদের মধ্যে করোনার বিস্তার এবার বেশি। ইতালিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণে আক্রান্ত ও মৃতের ঘটনা ঘটলেও উল্লেখযোগ্য সংখক ছিল না। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। ইতালিতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের হানা নিয়ে আতঙ্গে দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশিরা।

অপর দিকে করোনাকালীন চাকরি যাওয়া, ব্যবসায় মন্দার কারণে যে সকল প্রবাসী দেশে ফিরেছিলেন, তারা ফের ইতালিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। করোনাভাইরাসই এর একমাত্র কারণ। কেউ সংক্রমিত না হলেও ইতালি সরকারের কড়াকড়ি আরোপ চলছে দেশটির অভ্যন্তরে প্রবেশাধিকারে। যারা যেতে পারছেন না, কার্যত তাদের প্রবাস ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে দুই তিন বা বিমানের টিকিট কিনেও অনেকেই দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেনি। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি যারা চাকরি করতেন, তা হারিয়েছেন। এমন অনেকেই আছেন, না চাইতেও তাদের ব্যবসা গুটিয়ে গেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ইতালিতে। মার্চ থেকে মহামারি আকারে ধারণ করে। নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির সরকার। পরবর্তী সময়ে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় জুন থেকে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর স্বস্তি ফিরেছিল ইতালিতে। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল জীবনযাত্রা। তবে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চলমান পরিস্থিতিতে আবারও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here