উপকূলে ফের বাঁধ ভাঙন, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

0

অনলাইন ডেস্ক : সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় নদীর উপছে পড়া ঢল ও প্রবল স্রোতে বাঁধ ভেঙে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনের বিরামহীন বর্ষণে আম্ফানের পর সংস্কার করা বেড়িবাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় নদীর পানির তীব্র চাপে বাঁধগুলো একের পর এক ভেঙে পড়ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। শুক্রবার ভোর থেকে নদীতে প্রবল জোয়ারের চাপে রিং বাঁধ ভেঙে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে রিং বাঁধ তৈরি করে। সংস্কার করা সেই বাঁধগুলো সব ভেঙে গেছে জোয়ারের তোড়ে। কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়ন পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখোলা এলাকায় ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাওনিয়া, হিজলিয়া, কোলা, চাকলা, হরিশখালী এলাকার বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

শ্যামনগরে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল ইসলাম জানান, কপোতাক্ষের প্রবল জোয়ারের তোড়ে গত বৃহস্পতিবার লেবুগুনিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে তা মেরামত করে। টনা বর্ষণ ও নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তার পাশের দুটি স্থানে আবারও বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে লেবুগুনিয়া, চকবারা, গাবুরা ও খোলপেটুয়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এসব এলাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাঁধ মেরামতে সেনাবাহিনী নভেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু করবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর গিফারী বলেন, গাবুরা এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের সময় পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী কাজ শুরু করেছে। কত পরিবার পানিবন্দি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা পরে জানা যাবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (শ্যামনগর) আবুল খায়ের বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর লেবুগুনিয়ায় স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন মিলে একটি রিং বাঁধ দিয়েছিল। সেটির ছয়টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেগুলো মেরামতে কাজ চলছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে আরো দুটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংস্কারের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। ভেঙে পড়া বাঁধ এলাকায় মাটি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (আশাশুনি) সুধাংশু জানান, চাকলা, হিজলা, কোলাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চাকলা হিজলা ও কোলা এলাকায় বাঁধ সংস্কারের জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, সে জন্য সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেনি। কাজের পরিবেশ পাওয়া মাত্রই তারা বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here