ঐক্যফ্রন্ট-জামায়াত নিয়ে নেতাদের পর্যালোচনার জন্য বলেছেন খালেদা

3

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ দিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে রাজনীতি করছে বিএনপি। আর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে তারা। গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত এবং ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া নিয়ে দলের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সে বৈঠকে জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে মত দেন স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতা। গত শনিবার দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ফিরোজায় যান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেশের রাজনৈতিক নানা প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন বেগম জিয়া। এ সময় কয়েকজন সিনিয়র নেতা জামায়াত এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রসঙ্গ তুলেন।

এসব বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঈদের দিনে যেসব কথা বলা হয় এসব কথাই বলেছি। এতদিন ধরে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, সবার সুখ-দুঃখের কথাবার্তা আছে। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে আমাদের দলেরই অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের সম্পর্কে কথা হয়েছে, তাদের পরিবার পরিজনকে নিয়ে কথা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যেতে পারে সুখ-দুঃখের আলাপ হয়েছে। দল যেন সঠিকভাবে চলতে পারে তা নিয়েও দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি, বন্যা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক যে অবস্থা এটা তো স্বাভাবিক নয়। এ পরিস্থিতিতে উনার বিরুদ্ধে, দেশের সব মানুষের বিরুদ্ধে বিশেষ করে যারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম মামলা-মোকদ্দমা, জেল-জুলুম চলছে। এর মধ্যে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন।

জামায়াত এবং ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাডাম এতোটাই অসুস্থ নিজে বাসার নিচে নামতে পারেন না, হাঁটতেও পারেন না। তার এখনো খাওয়া দাওয়ায় সমস্যা। এই সময়ে ওনি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি। তবে আলোচনা হয়েছে। কারণ আলোচনা তো হতেই পারে। ওনি নিজের দল নিয়ে আলোচনার বাইরে কোনো কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, আপনার (দলের সিনিয়র নেতারা) যেটা ভালো বুঝবেন সেটাই করবেন। যদিও অনেকে অসত্য তথ্য প্রচার করছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া আর কিছুই নয়।’

ঈদের দিন শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। ‘ফিরোজায়’ প্রবেশের পর নেতারা পিপিই পরে দোতলায় ড্রয়িং রুমে বসেন। সেখানেই শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। এ সময় ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা ঈদের দিন নেত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছি। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ম্যাডাম দেশের করোনা এবং বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন। আমরা ওনাকে এসব বিষয়ে অবহিত করেছি। এ সময় দলের নেতাদের যার যার পক্ষ থেকে দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। ম্যাডাম খুব অসুস্থ। ওনার সুস্থ হয়ে ওঠাটাই আমাদের কাছে এখন মুখ্য বিষয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here