কঠিন সময় ট্রাম্পের

3

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গত দু’দিন ধরে খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে শনিবার টুইটারে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি আগের থেকে বেশ সুস্থ বোধ করছেন। তবে ফক্স নিউজকে ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের অক্সিজেন লেভেল দ্রুত নিচে নেমে এসেছে। শনিবার হোয়াইট হাউস বারবার নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্টকে আলাদা করে কোনো অক্সিজেন দিতে হচ্ছে না। ফলে চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোর বক্তব্যের পর ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্ট করা ভিডিওতেও ট্রাম্পকে বেশ ক্লান্ত দেখা যাচ্ছিল। এতে দেখা যায় তিনি জ্যাকেট এবং শার্ট পরে আছেন। ৪ মিনিটের ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, সামনের কয়েকটি দিন হতে যাচ্ছে আসল পরীক্ষা।
শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে একটি আপডেট প্রকাশ করে। এতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্টকে দ্বিতীয় বারের মতো রেমডিসিভির ডোজ দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তাতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকদের টিম থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরার বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন। যদিও মার্ক মিডো বলছেন, প্রেসিডেন্ট কীভাবে পুরোপুরি সুস্থ হবেন এখনো তার সুস্পষ্ট পথ আমরা পাইনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি প্রথমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন মন্তব্য জানালেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুর পাল্টে ফেলেছেন। পরে নাম প্রকাশ করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প খুব ভালো আছেন। তাকে সুস্থ হতে দেখে চিকিৎসকরা যথেষ্ট সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমন বক্তব্যের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে তার প্রাথমিক মন্তব্যের কথা জানতে পেরে প্রেসিডেন্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ডনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও বার্তা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পুরোদিন এক অস্পষ্টতার মধ্যে কাটে। ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে প্রথমে তাকে নেয়া হলে তিনি শুক্রবার জানান, যথেষ্ট সুস্থ বোধ করছেন না তিনি। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নিয়ে একটি গোল টেবিলে বসে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি আগামী কয়েকটি দিন হবে বাস্তব পরীক্ষার। তাই আমরা দেখবো সামনের কয়েকটি দিনে কি ঘটে। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ওয়াল্টার রিডের পরিস্থিতিতে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ওই হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন থাকতে হতে পারে ট্রাম্পের। তার অবস্থা সম্পর্কে আরেকটি সূত্র জানায়, হাসপাতালে নেয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ট্রাম্প যখন শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় পড়েন এবং তার অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছিল, তখনই তাকে হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এরপর তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন দারুণ এবং তিনি ভালো বোধ করছেন। ফোনে তারা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতেও কথা বলেন।
ওদিকে হাসপাতালের বাইরে হোয়াইট হাউসের ডাক্তার সিন পি কনলি গত শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্রাম্পের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা নেই। তাকে ওয়াল্টার রিডে অক্সিজেন দেয়া হয়নি। আমার টিম এবং আমি প্রেসিডেন্টের চিকিৎসায় অগ্রগতিতে খুবই খুশি। তবে কবে নাগাদ প্রেসিডেন্ট হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর পলিটিকস-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাইল কোনডিক বলেছেন, দর্শনীয় বিষয় হলো- চিকিৎসকরা বলছেন এক কথা। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো বলছেন আরেক কথা। আবার দু’পক্ষই পরে তাদের বক্তব্য সংশোধন করছেন। ফলে এতে এই প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই সমস্যায় ফেলেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here