করোনায় আক্রান্ত শিল্পীকে প্লাজমা দিলেন আরেক শিল্পী

6

বিনোদন ডেস্ক : একসময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত। তাঁকে প্লাজমা দিলেন এই প্রজন্মের সংগীতশিল্পী রাফসান মান্নান। চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের এই শিল্পী রবি চৌধুরীর প্লাজমা দরকার জেনেই দ্রুত তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছুটে যান হাসপাতালে। একজন তরুণ শিল্পীর কাছ থেকে এত দ্রুত সাড়া পাওয়ায় মুগ্ধ আর কৃতজ্ঞ রবি চৌধুরীর স্ত্রী রামিজা বাশার। সোমবার দুপুরে প্লাজমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন রবি চৌধুরী। শিল্পীর স্ত্রী রামিজা বাশার জানালেন, রবি চৌধুরীর শ্বাসকষ্ট বেশি, জ্বরও আছে। শরীরে অক্সিজেন ওঠা–নামা করছে, সঙ্গে নিউমোনিয়ার সমস্যাও রয়েছে। চিকিৎসক জানান, রোগীর বি পজিটিভ প্লাজমা দরকার। এরপর সোমবার সকালেই রামিজা বাশার তাঁর ফেসবুকে লেখেন, রবি চৌধুরীর জন্য বি পজিটিভ রক্তের প্লাজমা প্রয়োজন। এ পোস্ট নজরে আসে তরুণ সংগীতশিল্পী রাফসানের।

পরিবার নিয়ে রাফসান থাকেন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। রবি চৌধুরীর স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট নজরে আসে তাঁর। এরপর ছুটে যান ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানে তিনি অগ্রজ এই শিল্পীকে প্লাজমা দেন। তরুণ শিল্পী হয়ে অগ্রজ শিল্পীকে প্লাজমা দিতে পেরে ভীষণ আনন্দিত রাফসান।

সোমবার দুপুরে রাফসান জানালেন, জুন মাসে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। তাই এই রোগীর কষ্ট তাঁর জানা। চিকিৎসার একপর্যায়ে ৭ জুলাই কোভিড–১৯ পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলে সিদ্ধান্ত নেন প্লাজমা দেওয়ার। রাফসান বললেন, ‘আমার যখন করোনা পজিটিভ হয়, তখন শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টের সময় অনুভব করি করোনা রোগীর কষ্ট। তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিই, যদি বেঁচে যাই, সুযোগ পাই, প্লাজমা দিয়ে যে কারও জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসব। আজ রবি চৌধুরী ভাইয়ের প্লাজমা দরকারের পোস্ট দেখে সেই সুযোগটা পেয়ে গেলাম। আমি নিজে যেহেতু গান করি, গানের কাউকে দিতে পারাটা তো আরও বেশি সৌভাগ্যের। কোনো শিল্পীর পাশে তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে দাঁড়াতে পেরেছি, এর চেয়ে আনন্দের অনুভূতি আর কী হতে পারে।’

রামিজা বাশার জানালেন, রবি চৌধুরী ল্যাবএইডে চিকিৎসক নুর মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। রাফসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শিল্পীর স্ত্রী বললেন, ‘একজন শিল্পীর সংকট সময়ে আরেকজন শিল্পী প্লাজমা দিলেন। স্ত্রী হিসেবে আমার তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। আমার পোস্ট দেখেই তিনি ফোন করে সেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ধানমন্ডিতে ছুটে আসেন। মানবতা বুঝি একেই বলে। রাফসান ও তাঁর পরিবারের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও দোয়া রইল।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here