করোনা নিয়ে ট্রাম্পের ছলচাতুরি ফাঁস করলেন ডা. দেবরা

4

অনলাইন ডেস্ক : করোনা নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছলচাতুরির তথ্য ফাঁস করলেন ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে করোনা সম্পর্কিত ট্রাস্ক ফোর্সের সমন্বয়কারি ডা. দেবরা বার্স। সিবিএস নিউজের সাক্ষাৎকারভিত্তিক ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে ২৩ জানুয়ারি ডা. বার্স বলেছেন, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে কিছু লোক ছিলেন যারা বিশ্বাস করেছিলেন যে, কভিড১৯ একটি তামাশা। এমনকি বাস্তবতার আলোকে তিনি যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন তা প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় পাননি। তার পরিবর্তে ট্রাম্পের ইচ্ছার পরিপূরক চার্ট প্রদর্শন করা হয়েছে। আর এভাবেই করোনার থাবা প্রচন্ড গতিতে বিস্তৃত হয়েছে গোটা আমেরিকায়।

এই অনুষ্ঠানে করোনা মহামারি মোকাবেলায় কাজ করার সময় যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছেন তা সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন ডা. বার্স। সাংবাদিক মারগারেট ব্রিনেন জানতে চান, ‘হোয়াইট হাউজে এমন কেউ ছিলেন কিনা যারা করোনা মহামারিকে আমলে নিতে চাননি কিংবা এটি যে জনস্বাস্থের জন্যে মারাত্মক তা অনুধাবন করেননি?’ জবাবে বার্স বলেছেন, ‘কিছু লোক ছিলেন, যারা নিশ্চয়ই মনে করেছেন যে, সত্যিকার অর্থেই এটি একটি প্রতারণা।’

কেন সত্য গোপন করে মিথ্যা প্রচারে চাপ দেয়া হয়? জবাবে ডা. বার্স বলেছেন, আমি মনে করি শুরুতে তথ্যগুলো বিভ্রান্তিকর ছিল। সঠিক তথ্য আমরা পরিবেশনে সক্ষম হইনি। এ অবস্থায় ট্রাম্পের লোকজন বলেছেন যে, করোনা আক্রান্ত হলেও সকলেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। তারপর তারা আমাদের সাথে কথা বলেছিল এই রোগটি কতটা গুরুতর এবং কীভাবে এটি আমেরিকানদের মৃত্যুর মিছিলে রূপ নেবে। বার্স দাবি করেন যে, গত বছরের মার্চে মহামারির ভয়াবহতা অনুধাবন করেছিলেন। সে সময় তিনি (বার্স) অবশ্য ট্রাম্পকে অবহিত করেন যে প্রেসিডেন্টের কাছে এমন কিছু তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে যা তার (বার্স) কাছে থেকে আসেনি, অর্থাৎ ভুয়া তথ্য।
বার্স বলেন, ‘হোয়াইট হাউজে পৌঁছানোর পর আমি যেসব তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছিলাম, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হলো। তার স্থলে হোয়াইট হাউজের উদ্ভট তথ্যগুলো থামিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু তা করা সম্ভব হয়নি। আমি দেখলাম, আমার সামনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনার গতিবিধি আলোকে যে তথ্য-চিত্র উপস্থাপন করেছেন আমার রেফারেন্সে, প্রকৃত অর্থে সেটি আমার ছিল না। আমার প্রস্তুতকৃত তথ্য-চিত্রে হোয়াইট হাউজের কিছু লোক ঐসব অসত্য-অবাস্তব তথ্য-জুড়ে তা ব্রিফিংকালে প্রদর্শন করেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট।

বার্স বলেন যে, করোনার প্রকৃত তথ্য প্রকাশে তাকে বাধা দেয়া হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অথচ তিনি আশা করেছিলেন জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে আরো বেশী তথ্য উপস্থাপন করতে পারবেন। বিশেষ করে করোনা টেস্টিং ইস্যুতে।

বার্স বলেছেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্টে কথাবার্তা করোনা দমনের কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করেছে, যার পরিণতিতে এতগুলো আমেরিকানের প্রাণ গেছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here