কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক মহান বিজয় দিবস ২০১৯ উদ্যাপন

32

যথাযথ মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভির্যের সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কানাডা ৪৯তম মহান বিজয় দিবস পালন করে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ভবনে মান্যবর হাই কমিশনার মিজানুর রহমান কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচীর শুরু হয়। হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের উপস্থিতিতে মান্যবর হাই কমিশনার জাতীয় সংগীতের সাথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এর পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাই কমিশনের সহকারী কন্স্যুলার কর্মকর্তা জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম।

অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের অডিটরিয়ামে সন্ধ্যা ৬টা হতে ৯টা পর্যন্ত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিশনের কাউন্সেলর ফারহানা আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানটি শুরু হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার অবদানের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। মিশনের উপ হাইকমিশনার চিরঞ্জীব সরকার, মিনিস্টার (রাজনৈতিক) মিয়া মোঃ মাইনুল কবির, কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন এবং প্রথম সচিব (কন্স্যুলার) অপর্ণা রাণী পাল এ দিবস উপলক্ষে যথাক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

মান্যবর হাই কমিশনার তাঁর বক্তব্যের শুরুতে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অবিচল ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিপাগল জনগণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শাহাদাৎ বরণকারী লাখো বীর শহীদ এবং ’৭৫ এর কালোরাতে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির জনকের পরিবারের সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর সোনার বাংলা গঠনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে উন্নীত করতে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ এবং সফলতার বিষয়ে আলোকপাত করেন। মান্যবর হাইকমিশনার কানাডা-বাংলাদেশের ক্রম বর্ধমান বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সে ক্ষেত্রে হাইকমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকার কথা বিবৃত করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তার জন্য হাইকমিশনের বিবিধ কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশন কানাডার বুকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রষ্টা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের বছরব্যাপী নানান অনুষ্ঠান আয়োজনের উল্লেখ করেন। এ সকল অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। তিনি প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশীগণকে দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসাবে বর্ণনা করে আরো অধিকতর অবদান রাখার আহবান জানান। মান্যবর হাই কমিশনার সকলের সহযোগীতা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সূচিত উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বেগবান করতে এবং বাংণাদেশের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরবর্তীতে, স্থানীয় শিল্পীসহ হাই কমিশনের কর্মকর্তাগণ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক পর্বে হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, কাউন্সেলর ফারহানা আহমেদ চৌধুরী, ডালিয়া ইয়াসমিন, অং সুয়ে থোয়াই, নার্গিস আখতার রুবি, আরেফিন খান এবং শিশু শিল্পী আমীরা, ওয়াজিদ জামান সংগীত পরিবেশ করেন, আবৃত্তি করেন আফরোজা বানু, শিউলী হক, এ টি এম গিয়াসউদ্দিন সোহেল। আর তবলায় সহযোগিতা করেন সঞ্জয় দাস। স্থানীয় নাগরিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশীগণ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরিশেষে, উপস্থিত সকলের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here