কিশোরী হত্যাকাণ্ড ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, পুলিশ প্রধান ও শিক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত

4

অনলাইন ডেস্ক : রোমানিয়ায় এক স্কুল পড়ুয়া কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক বরখাস্ত হচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। হত্যাকাণ্ড প্রকাশের পরপরই পদত্যাগ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বরখাস্ত করা হয় দেশটির পুলিশ প্রধানকে। সর্বশেষ ওই কিশোরীকে নিয়ে এক বেফাঁস মন্তব্য করে বরখাস্ত হলেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, গত ২৪শে জুলাই অপহৃত হয় আলেক্সান্দ্রা মাসেসানু। অপহরণের একদিন পর দেশটির জরুরি সেবায় তিনবার ফোনকল দিতে সক্ষম হয়েছিল সে। জানিয়েছিল, তাকে অপহরণ করা হয়েছে, ধর্ষণ করা হয়েছে ও আটকে রাখা হয়েছে।

তবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি সে। তার ওই ফোনকলের প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে উদ্ধারের কাজে নামে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে দেশটির পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার পরপরই নিজ থেকে পদত্যাগ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাসেসানুর হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ গড়ে ওঠে। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানান অনেকে। পুরো দেশ যখন এ ঘটনায় প্রশাসনের নির্বিকারতার সমালোচনা করছে, তখন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ইকেতেরিনা আন্দ্রোনেস্কু এক বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। বলেন, ওই কিশোরীকে অপরিচিত ব্যক্তির গাড়িতে না উঠতে যথাযথ শিক্ষা দেয়া হয়নি। তার এমন মন্তব্যে ফের ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দেশের জনতা। জনতার বিক্ষোভের মুখে তাকে বরখাস্ত করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিয়োরিকা দানসিলা। বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ওই মন্তব্য বড় ধরনের ভুল ছিল। যদিও আন্দ্রোনেস্কু জানান, তিনি ওই কিশোরীর পরিবার বা পিতামাতাকে দোষ দিয়ে ওই মন্তব্য করেন নি।
যা ঘটেছিল মাসেসানুর সঙ্গে
পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্যারাকালে তার বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই অপহরণের শিকার হয় মাসেসানু। অপহরণের ১৯ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রথম অ্যাকশনে যায়। ধারণা করা হয় এরইমধ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার আলেক্সান্দ্রার আঙ্কেল আলেক্সান্দ্রু কুম্পানাসু তার সঙ্গে হওয়া জরুরি ১১২ সেবার কল রেকর্ড প্রকাশ করেন। এতে তাকে ১১২ সেবা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করতে শোনা যায়। তিনি অনুরোধ করছিলেন, দয়া করে লাইনে থাকুন। আমি সত্যিই চিন্তিত। কিন্তু অন্য কল ধরতে হবে জানিয়ে তার লাইনটি কেটে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা ঘর্ঘ দিনকা স্বীকার করেছে যে সেই আলেক্সান্দ্রাকে হত্যা করেছে। তার বাড়িতে মাসেসানুর ডিএনএ পাওয়া গেছে। এখন কারাগারে রয়েছেন দিনকা। ৬৫ বছর বয়স্ক এই ব্যক্তি আরো একটি খুনের দায় স্বীকার করেছেন। লুইজা মেলেনকু নামের এক তরুণীকেও হত্যা করেন তিনি। এপ্রিল মাস থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ ছিল। দিনকার আইনজীবী জানিয়েছে, তার মক্কেল তার দোষ শিকার করে নিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here