গণফোরাম ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া

1

অনলাইন ডেস্ক : গণফোরাম ছাড়লেন ড. রেজা কিবরিয়া। দলের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। দলীয় সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে তিনি আজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন রেজা কিবরিয়া।
এক বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং আমার পদত্যাগপত্র দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছি। এ ছাড়া আমি গণফোরামের দলীয় সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছি।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে রেজা কিবরিয়া ড. কামাল হোসেন ও গণফোরামের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন থেকেই গণফোরাম নেতাদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। বহিস্কার, পাল্টা বহিস্কারের ঘটনায় দলে উত্তেজনা চললেও এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আভাস মিলে। দুই পক্ষের নেতারা একসঙ্গে কাজ করার কথাও জানান। এই পরিস্থিতিতেই হঠাৎ দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রেজা কিবরিয়া।

উদ্ভূুত এই পরিস্থিতির মধ্যেই দল থেকে পদত্যাগ করলেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া পুত্র রেজা কিবরিয়া।

এর আগে, ২০১৯ সালের ঘোষিত কমিটিতে ড. আবু সাইয়িদ ও সুব্রত চৌধুরী গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ছিলেন। আর ১৯৯৩ সালে গঠিত প্রথম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক থাকলেও ২০১২ সালে মন্টু দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোকাব্বির খান ওই কমিটির সভাপতি পরিষদের তালিকায় ৬ নম্বর এবং অ্যাডভোকেট শফিকউল্লাহ ১১ নম্বর সদস্য ছিলেন।

এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই গত বছরের মার্চে ওই কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলে দলে বিরোধ দেখা দেয়। তখন ওই তিন নেতাসহ সিনিয়র আরো অনেককে বাদ দেওয়া হলে গণফোরামে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এরপর কিবরিয়া ও মন্টু সমর্থকদের মধ্যে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসায় গত ডিসেম্বরে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে দুই অংশের বৈঠকে ১১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ড. কামাল হোসেন দলের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ সন্মেলনে কথাও বলেন। কিন্তু দল পরিচালনায় স্টিয়ারিং কমিটিতে কার নাম আগে আর কার নাম পরে যাবে তা নিয়ে বিরোধ চলতেই থাকে। এতে দলীয় কার্যক্রমেও নেমে আসে স্থবিরতা। আর সবশেষ, রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই সঙ্কট নতুন রূপ পেলো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here