গ্রিস প্রবাসী তারুণ্য শক্তি সম্পৃক্ত হচ্ছে দেশের কাজে

2

অনলাইন ডেস্ক : গ্রিসে বড় হওয়া দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীরা হতে পারেন বাংলাদেশ ও গ্রিসের সত্যিকারের সেতুবন্ধ। নতুন প্রজন্মের ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি একদিকে যেমন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পদ হতে পারে, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সংরক্ষণে জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারে। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রবাসী তরুণ-তরুণীদের এবং তাঁদের অভিভাবকদের নিয়ে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস গত শনিবার (১৮ জুলাই) দূতাবাস প্রাঙ্গণে সেমিনারের আয়োজন করে। ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ প্রোগ্রাম ইন গ্রিস’ শীর্ষক এ সেমিনারে গ্রিসের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী প্রবাসী তরুণ-তরুণী ও তাদের অভিভাবকেরা অংশ নেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন। তিনি আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য প্রবাসী তরুণ-তরুণী ও তাঁদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধিরা গ্রিসে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দিতে খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশের একেকজন প্রতিনিধি বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত তাদের দেশের স্বার্থে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। মুজিব বর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ও উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের কাছে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য তরুণ-তরুণী এবং তাঁদের অভিভাবকদের আহ্বান জানান। বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্থানীয় আইন মেনে চলার সংস্কৃতি সৃষ্টিতেও দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনার সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর সুজন দেবনাথ। সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সেমিনার শুরু হয়। সেমিনারের শুরুতে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংকট থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের উত্তরণ এবং সব বাংলাদেশি ও প্রবাসী ভাইবোনের মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

এরপর গ্রিসে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে ২৫ জন তরুণ-তরুণী তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। আলোচনায় তাঁরা গ্রিসে দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি হিসেবে বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাকালে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গ্রিসের মাটিতে শিক্ষাজীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ আলোচনায় তাঁরা গ্রিক সমাজের জনগণ পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে তাঁদের পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার কথা বলেন। এ বিষয়ে তাঁরা সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দূতাবাসের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের চ্যালেঞ্জ এবং গ্রিসের সমাজে নতুন প্রজন্মের খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তরুণ-তরুণীরা।

প্রবাসী অভিভাবকদের মধ্য আটজন আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা প্রজন্মগত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং এ বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করার জন্য দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের আহ্বান জানান।

দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ খালেদ এবং কাউন্সেলর (শ্রম) সৈয়দা ফারহানা নূর চৌধুরীও আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা দেশের স্বার্থে তরুণ-তরুণীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে গ্রিসে বড় হওয়া দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের নিয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম ইন গ্রিস গঠিত হবে। এই ফোরাম গ্রিসে নতুন প্রজন্মের সমস্যা ও সমাধানে দূতাবাসের সঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সংরক্ষণ এবং জনগণ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করবে। এ কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে।

এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান অভিভাবকেরা। দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম ইন গ্রিস গঠিত হলে সেটি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সামগ্রিকভাবে দেশের কল্যাণে প্রবাসী তরুণ-তরুণীদের কাজ করার অনন্য প্ল্যাটফর্ম হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। বিজ্ঞপ্তি

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here