চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কানাডার বনভোজন

35

অনলাইন ডেস্ক : প্রকৃতির অপরূপ রূপে সজ্জিত হ্যামিল্টনের ৫০ পয়েন্ট কনজারভেশন পার্কে হয়ে গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা ইনকের জমজমাট বার্ষিক বনভোজন। গ্রীষ্মের দাবদাহকে উপেক্ষা করে মন্ট্রিয়েল, অটোয়া, পিটারবোরো, কিচেনার, গুয়েল্ফ ও মিল্টনসহ দূরদূরান্ত থেকে এই বনভোজনে ছুটে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকেরা। বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি প্রমাণ করে, এ যেন সবার প্রাণের দাবি, হৃদয়ের টান। বনভোজনস্থল পরিণত হয় কানাডার বুকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ক্যাম্পাসে। সবাই মেতে ওঠেন আড্ডা আর খোশগল্পে—‘হায় মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়-আবার দেখা হলো, সখা, প্রাণের মাঝে আয়’।

দিনভর নানা জমকালো অনুষ্ঠানসূচিতে টইটম্বুর ছিল বনভোজন (পিকনিক ২০১৯)। ৬ জুলাই শনিবার সকাল নয়টায় শাহজালাল হল, শাহ আমানত হল, আলাওল হল ও এএফ রহমান হল নামে চারটি বাস ছেড়ে যায় টরন্টোর ডেনফোর্থের শপার্স ওয়ার্ল্ড লোকেশন থেকে। এ ছাড়া সামসুন্নাহার হল নামের আরেকটা বাস ছেড়ে যায় ইটবিককের আলবিওন মল থেকে।

ডিম-চিজ স্যান্ডউইচ, হাস্ব্রাউনি আর জুস—সকালের নাশতা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এবারের বনভোজন আয়োজকদের অনেক সফলতার মধ্যে অন্যতম হলো যথাসময়ে বাস ছাড়া। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সব বাস পিকনিক স্পটে চলে আসে। গরম-গরম চা আর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বেলা বিস্কুট দিয়ে বরণ করা হয় সবাইকে। এরপর সবাই ছুটে যান বালিকাময় বিচের টানে। স্বচ্ছ সুশীতল পানিতে নেমে পড়েন অনেকেই।

পুরো অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত ছিল। শুরুতে সবার জন্য খেলাধুলার পর্ব। স্পোর্টস সেক্রেটারি নাসিমা বেগম লাভলীর নেতৃত্বে এ পর্বে সবার জন্য ছিল মজাদার সব আয়োজন। তাঁকে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁরা হলেন হুমায়ূন কবির, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আজম, স্বপন নাথ, জসিম উদ্দিন প্রমুখ। এ পর্বে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল নারীদের পিলো পাস।

বেলা ২টা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সতর্ক দৃষ্টি দিনের পরবর্তী কর্মসূচির দিকে। মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুরু হয়ে গেল সুস্বাদু খাবার আর সুরের ঝংকার। অসাধারণ সব পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে অল্পক্ষণেই। পরিণত হয় এক আবেগময় পরিবেশ। মুহুর্মুহু করতালি আর তালে তালে নৃত্য, সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সংগীত পরিবেশন করেন মুক্তা পাল, আবদুল বাসিত, মেহজাবিন, ইউসা, সিরাজী। সুরের লহরি নিয়ে সুদূর অটোয়া থেকে ছুটে এসেছেন আমাদের সবার প্রিয়মুখ অঙ দা ও নার্গিস আপা। তাঁদের পরিবেশনা ছিল খুবই উপভোগ্য। অসাধারণ সব পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠান মাতিয়ে রেখেছিলেন চবির প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েট মারুফ। এ পর্ব পরিচালনায় ছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও সাজ্জাদ হোসেন।

এবারের বনভোজনের আকর্ষণীয় পর্ব ছিল কানাডা ডে উপলক্ষে চুয়াক (CUAAC) কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত ছোটদের জন্য ড্রয়িং প্রতিযোগিতা। চোখে পড়ার মতো প্রতিযোগী অংশ নেয় এই পর্বে। দুই দলে বিভক্ত প্রায় পঞ্চাশের বেশি ছেলেমেয়ে অংশ নেয়। যা ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। আঁকিয়েদের অঙ্কন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিচারকদের প্রশংসা অর্জন করেছে ভীষণভাবে। বিচারক ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন, রেবেকা সুলতানা ও ফাইন আর্টসের প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েট রওশন ইসলাম। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা ও ট্রেজারার সাজ্জাদ হোসেন।

বেলা শেষের করুণ রাগিণী, সেই সঙ্গে সুধান দার র‌্যাফল ড্রয়ের শেষ ডাক। সঙ্গে ঝালমুড়ি আর পতেঙ্গার তরমুজের আমেজ। বরাবরের মতো এবারও র‌্যাফলের দায়িত্বে ছিলেন রাফল কিং খ্যাত সুধান রায়। সহযোগিতায় ছিলেন বিশ্বজিৎ পাল ও মানস ধর।

শেষে সংগঠনের সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার ও সাধারণ সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য উপস্থিত সবাইকে অনুষ্ঠানে আসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আগামী অনুষ্ঠানগুলোতেও এভাবে অংশ নিয়ে অনুপ্রাণিত করার আহ্বান ও অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে অত্যন্ত সফল, সুশৃঙ্খল ও উপভোগ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা, শ্রম ও সময় দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিশেষভাবে হ্যামিলটন অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিনিধি এমাদের অক্লান্ত শ্রম আর সময়ের জন্য ধন্যবাদ জানান।

যাঁরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার ওবায়দুল হক, মাহবুবুল হক ওসমানী, সামি খান, মাহবুবুল ইসলাম সাইফুল, মিঠু সোম, তেহজিনা এমদাদ নূপুর, নাসিমা বেগম লাভলী, দেবরাজ বিশ্বাস, সারওয়ার জামান, সেলিনা সারওয়ার, রুবায়াত হাসান, ফরিদ আহমেদ, ফরিদ উদ্দিন খান সিদ্দিকী, দেবব্রত দে তমাল, বখতিয়ার খান, ফারুক আহমেদ, আশরাফুল হুদা, মোহাম্মদ হক (আতিক ভাই) উল্লেখযোগ্য।

‘আমার যাবার সময় হলো দাও বিদায়, মুছো আঁখি দুয়ার খোলো’—ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ২০১৯ সালের পিকনিককে বিদায় ও ২০২০ সালের পিকনিকের আগমনীর বার্তা নিয়ে রাত নয়টায় সবাই ফিরে যান আপন নীড়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here