টরন্টো শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটি থেকে গাজী বেলায়েত হোসেন মিঠুকে অব্যাহতি

4

অনলাইন ডেস্ক : টরন্টো শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটি থেকে কানাডায় অর্থপাচারকারী অভিযুক্ত গাজী বেলায়েত হোসেন মিঠুকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গতবছর থেকে কানাডার টরন্টোতে বেগমপাড়া ও বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে আনা দুর্নীতিবাজ, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের বিরুদ্ধে’ দেশ-বিদেশে সাড়া জাগানো লুটেরাদের বিরোধী এক সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলন থেকে ঘোষণা করা হয় কানাডায় অর্থপাচারকারী লুটেরাদের সামাজিকভাবে বর্জন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে এ বছর জানুয়ারি থেকে লুটেরা বিরোধী মঞ্চ, কানাডা ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন এবং প্রবাসী নাগরিকদের পক্ষ টরন্টো শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটিতে থাকা দু’জন চিহ্নিত অভিযুক্ত লুটেরাকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে।

সেই দাবির প্রেক্ষিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি টরন্টো’র শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটি আইএমএলডি (International Mothers Language Day) থেকে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় আসা অর্থপাচাকারী হিসেবে অভিযুক্ত গাজি বেলায়েত হোসেন মিঠুকে অব্যাহতি দেয়া হলেও তার স্ত্রী নাহিদ আখতারকে দেয়া হয়নি। তার সম্পর্কে আইনীপ্রক্রিয়ায় অব্যাহতির প্রদানের অস্পষ্ট কৌশলের কথা বলা হয়। তাদের সে সিদ্ধান্ত মঞ্চের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং প্রত্যাখান করা হয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদ মিনার নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথে কোন অভিযুক্ত, বিতর্কিত কোন ব্যক্তিকে রাখার সুযোগ নেই। শহীদের আত্মদান স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারকে আমরা কোনভাবেই কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বার্থে লুটেরা বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের আংশিক অর্জন হলেও আমরা দাবির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টরন্টোতে মাহবুব চৌধুরী রনি, ফারজানা চৌধুরী বিন্দু ও এরিন কবীরের পরিচালনায় এক সর্বজনীন এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এতে লুটেরা বিরোধী মঞ্চের পক্ষে আলোচনা করেন, নজরুল মিন্টু, আহমেদ হোসেন, ড. মঞ্জুরে খোদা, সুমন সাইয়ীদ, নওশের আলী, সৈকত রুশদী, মোহাম্মাদ বাশার, রেজা অনিরুদ্ধ, রাজিবুর রহমান, ইমরুল ইসলাম, আসাদ নিশু, রুহুল চৌধুরী, জাকারিয়া চৌধুরী, রোকেয়া পারভিন, হাসমত আরা চৌধুরী জুঁই, ড. সুরভি সাঈদ, রিফাত নওরীন, নাজমা কাজি, শেখ নাহার, রেজা সাত্তার, লিটলী রায়।

সামাজিক, সংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ব্যারিস্টার আলমগীর হোসাইন, আব্দুল হালিম মিয়া, মাসুক মিয়া, আজফর সাঈদ ফেরদৌস, ইমরুল ইসলাম, মাসুদ আলী লিটন, সাদ চৌধুরী, আরিফ আহমেদ, ইলিয়াছ খান, ফাইজুল চৌধুরী, শানদে, গোলাম মোস্তফা, মিজবাউল কাদের ফাহিম প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, সঙ্গীত শিল্পী নাহিদ কবীর কাকলী, নৃত্যশিল্পী অরুণা হায়দার, ফারহানা শান্তা, মামুনুর রশীদ, মৈয়ত্রী দেবী, আসিফ, আবৃত্তিতে ছিলেন, শ্যামল মাহমুদ, রুবিনা চৌধরী, শিউলি জাহান, হোসনে আরা জেমি, মুনীরা সুলতানা মিলি, তৃষ্ণা শিখা এবং নৃত্য পরিবেশন করেন রায়না রাকিব, রিদা রহমান।

আলোচকরা বলেন, টরন্টোতে শহীদ মিনার নির্মাণের একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে এবং তার সাথে অনেকের নাম জড়িত আছে। যারা একসময় শহীদের চেতনার তাগিদে ইট-কাঠ-কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে একুশ উদযাপনের ব্যবস্থা/আয়োজন করেছেন, সে সব ব্যক্তিদের অনেকের নামই এই কমিটিতে নেই, তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যদা প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়।

বক্তারা বলেন, মঞ্চ’র সাথে আইএমএলডি’র সংলাপে তারা অভিযুক্ত ২ জনকেই কমিটি থেকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু উনারা এক সপ্তাহ পরে- একজনকে অব্যাহতি দিয়ে আমাদের দাবির খন্ডিত পূরণ করে প্রহসন করেছেন। অভিযুক্ত ও বিতর্কিতদের বহিষ্কারে তাদের অনীহার কারণ-সমীকরণ নিয়ে অনেক বক্তাই প্রশ্ন তোলেন। বক্তারা বলেন, যারা লুটেরাদের রক্ষায় কমিউনিটির স্বার্থের বিপক্ষে যাবেন তাদেরকেও লুটেরাদের সহযোগী হিসেবে ভবিষ্যতে বর্জন করা হবে।

মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, আশা করেছিলাম, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আইএমএলডি কমিউনিটির দাবি পূরণ করবেন সেটা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের অনুষ্ঠান হতে তাদের আরো দুই সপ্তাহ সময় দেয়া হলো, এরমধ্যে তারা অন্যজনকে বহিষ্কার করলে আইনীপন্থাসহ পরবর্তী সিদ্ধান্ত/কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

লুটেরা বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সাথে টরন্টো-অন্টারিওর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পিডিআই, বাচনিক, অন্যস্বর, জালালাবাদ এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, উদীচী, টরন্টো বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক এসোসিয়েশন, কৃষিবিদ এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here