তিনি শুধু ভাই না আমার শিক্ষকও ছিলেন: এরশাদের কুলখানিতে জিএম কাদের

2

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার বড় ভাই-ই ছিলেন না, তিনি আমার পিতা, শিক্ষক ছিলেন। তার কোলে চড়ে সিনেমা দেখেছি। তিনি আমাকে চামচ দিয়ে খাইয়েছেন। কিভাবে টাই বাঁধতে হয় তা শিখিয়েছেন। পরবর্তীতে যখন রাজনীতিতে আসি, তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয়, তা শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার ওপরের ছাতাটি সরে গেছে, বটগাছটি আর নেই। আপনারা ওনার (এরশাদ) জন্য দোয়া করবেন।

বুধবার গুলশান আজাদ মসজিদে সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কুলখানিতে কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, সালমান এফ রহমান, নূর-ই আলম সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দুই ছেলে সাদ এরশাদ এবং এরিক এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, ব্যবসায়ী, আমলা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা কুলখানিতে অংশ নেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘আজকে খেলার যে অর্জন তার বীজ বপন করেছেন উনি (এরশাদ) বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালন করার জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে, এর গোড়াপত্তন করেছেন এরশাদ উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি মানুষের অবদান, অর্জন বোঝা যায় তার মৃত্যুর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিলধারণের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটির সমাগম আরও বেশি হয়েছে। এতে বোঝা যায় ওনার নীতি-কর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টায় খোঁজখবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের ডাক্তাররা রাতদিন কাজ করেছেন। চেষ্টা করেছেন। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ধর্ম ও জাতির মানুষের কল্যাণে অবদান রেখেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিল তার সব কর্মকাণ্ড।’

আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রাজনীতিতে মত ও পথের অমিল ছিল। কিন্তু আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে শ্রদ্ধা করতাম। তিনিও আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন বিনয়ী মানুষ ছিলেন, মার্জিত স্বভাবের অধিকারী ছিলেন।’

নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের প্রতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মমত্ববোধ অতুলনীয়। আমি তার ব্যবহারে মুগ্ধ ও বিমোহিত হয়েছি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। শিশুদের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অসাধারণ।’

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপি, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, রুহুল আমিন হওলাদার এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, শেখ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, হাবিবুর রহমান, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মো. আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, আলহাজ আতিকুর রহমান আতিক, মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার, লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মো. মিজানুর রহমান, সৈয়দ দিদার বখত, কাজী মামুনুর রশীদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নাজমা আখতার এমপি, আবদুস সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, রওশন আরা মান্নান এমপি, আদেলুর রহমান, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তফা, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নাসিম উদ্দিন আল আজাদ, ডা. নাজিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর শিকদার লোটন, লিয়াকত হোসেন খোকা, নুরুল ইসলাম মিলন, নুরুল ইসলাম তালুকদার, ইসাহাক ভূঁইয়া, আলমগীর কবির মজুমদার, কামাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা আঙ্গুর প্রমুখ কুলখানিতে উপস্থিত ছিলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ জুলাই ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার বেলা ২টা ২৯ মিনিটে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে চতুর্থবারের মতো জানাজা শেষে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে রংপুরের নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে তাকে দাফন করা হয়।

দেশব্যাপী মিলাদ মাহফিল করবে জাকের পার্টি : হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ দেশব্যাপী মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবে জাকের পার্টি। দলটির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শামীম হায়দার প্রেরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত কর্মসূচি পালন করবে তরিকতভিত্তিক দলটি। জাকের পার্টির বৈদেশিক শাখাগুলোও এদিন অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

কবর জিয়ারত করেন সাদ : রংপুর ব্যুরো জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরাশাদকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রংপুরে নিজ হাতে গড়া পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয়।

এদিন কবরের পাশে বসে অনেকক্ষণ কাঁদেন বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি সাদ এরশাদ। বুধবার সকালে বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবারও অঝোরে কাঁদেন তিনি। দুপুরে ঢাকায় ফেরার আগে আবার বাবার কবর জিয়ারত করতে যান সাদ এরশাদ।

সঙ্গে ছিলেন এরশাদের চাচাতো ভাই সামসুজ্জামান মুকুল, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের ভাতিজা মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আবদুল বারীসহ পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে সকালে এরশাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজন কবরের পাশে ফাতেহা পাঠ করেন। এছাড়া কবরের পাশে মাদ্রাসার ছাত্ররা দিনভর কোরআন তেলাওয়াত ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

রংপুর সিটি মেয়রের কৃতজ্ঞতা : বেরোবি প্রতিনিধি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরের পল্লী নিবাসে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

মঙ্গলবার রাতে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সুসম্পন্ন করতে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তাতে আমি চিরঋণী হয়ে থাকব।

আপনাদের সবার সহযোগিতা না পেলে কোনোভাবেই উন্নয়ন, অগ্রগতি, পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির চেতনার বাতিঘর, কিংবদন্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমাধি রংপুরে দেয়া সম্ভব হতো না। আপনাদের এ ঋণ আমি কখনই শোধ করতে পারব না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here