দুরন্ত জয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল নাইটরা

4

স্পোর্টস ডেস্ক : মরণ-বাঁচন ম্যাচে ঝলসে উঠল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ব্যাট হাতে মঞ্চটা বেঁধে দিয়েছিলেন ইয়ন মরগ্যান। অধিনায়কের ঝলমলে পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত হয়ে বাকি কাজটা হেলায় সেরে ফেললেন প্যাট কামিন্স, বরুণ চক্রবর্তীরা। আইপিএলের গ্রুপ পর্বে অস্তিত্বরক্ষার অন্তিম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৬০ রানে হারিয়ে শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখল নাইট ব্রিগেড।

মরগ্যানদের ছুঁড়ে দেয়া ১৯২ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩১ রানে আটকে গেল স্টিভ স্মিথের দল। মূলত কেকেআরের জয়ের নায়ক মরগ্যান ও কামিন্সের সামনেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে রাজস্থানকে। প্রবল চাপের মুখে ৩৫ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন ক্যাপ্টেন মরগ্যান। যার সুবাদে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নাইট রাইডার্স ৭ উইকেটে তোলে ১৯১ রান। আর কামিন্স ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৪ রানের বিনিময়ে দখল করেন চারটি উইকেট। রোববারের জয়ের সুবাদে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার নম্বরে উঠে এলো কেকেআর। তবে খারাপ রান রেটের (-০.২১৪) কারণে মরগ্যানদের এখন তাকিয়ে থাকতে হবে সোমবারের দিল্লি-বেঙ্গালুরু এবং মঙ্গলবারের হায়দরাবাদ-মুম্বই ম্যাচের দিকে।

রাজস্থান ইনিংসের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। আস্কিং রেট দ্রুত কমিয়ে আনার জন্য প্রথম থেকেই চালিয়ে খেলতে গিয়ে বিপদে পড়েন রবীন উথাপ্পা, বেন স্টোকসরা। গতির সঙ্গে স্যুইংয়ের মিশেল ঘটিয়ে কেকেআরের তারকা পেসার প্যাট কামিন্স রাজস্থানের নাভিঃশ্বাস তুলে দেন। প্রথম স্পেলেই (৩-০-২৯-৪) রাজস্থানের টপ অর্ডারকে লণ্ডভণ্ড করে দেন তিনি। কামিন্সের প্রথম শিকার উথাপ্পা (৬)। কিছুক্ষণের মধ্যে বিপজ্জনক বেন স্টোকসকেও (১৮) ডাগ-আউটে ফেরান তিনি। বাঁদিকে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিক। এরপর স্মিথ ৪ রানে বোল্ড হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে নাইট শিবির। অজি তারকার দেখানো পথে কেকেআরকে চতুর্থ সাফল্যটি এনে দেন শিবম মাভি। তাঁর বলে সঞ্জু স্যামসন ১ রানে কার্তিকের হাতে ধরা পড়েন। রিয়ান পরাগকেও খাতা খোলার সুযোগ দেননি কামিন্স। এরপর জস বাটলার (৩৫) ও রাহুল তেওয়াটিয়া (৩১) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষদিকে শ্রেয়াস গোপালের অপরাজিত ২৩ রানের ইনিংস রাজস্থানকে অল-আউট হওয়ার লজ্জা থেকে রক্ষা করলেও তাদের হার বাঁচাতে পারেনি।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট না করার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল সেটা পরে হয়তো বুঝেছেন স্মিথ। তবে কেকেআরের শুরুটা ভালো হয়নি। দিনের দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই নীতীশ রানাকে (০) ডাগ-আউটে ফেরান জোফ্রা আর্চার। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন শুভমান গিল ও রাহুল ত্রিপাঠি। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ৭২ রান। কিন্তু বরাবরের মতোই সেট হওয়ার পরেও উইকেট ছুঁড়ে দেন শুভমান। রাহুল তেওয়াটিয়ার বলে তুলে মারতে গিয়ে ৩৬ রানে বাটলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর দ্রুত ফিরে যান সুনীল নারিনও (০)। পর পর দু’টি উইকেটের পতন ঘটায় কেকেআর শিবির চাপে পড়ে যায়। তখন বাধ্য হয়েই নামতে হয় ক্যাপ্টেন ইয়ন মরগ্যানকে। তার সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। রাহুল ত্রিপাঠি (৩৯) নিয়ে ২০ রানের জুটি গড়েন তিনি। রাহুল আউট হওয়ার পর নামেন কার্তিক। কিন্তু রানের খাতাই খুলতে পারেননি সাবেক নাইট অধিনায়ক।

একটা সময় নাইট রাইডার্সের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৯৯। তখন ভাবা যায়নি কেকেআর এতটা রান তুলতে পারবে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় পাল্টা প্রত্যাঘাতের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন মরগ্যান। চোট সারিয়ে কামব্যাক ম্যাচে প্রথম থেকেই মারমুখী ছিলেন আন্দ্রে রাসেলও (১১ বলে ২৫ রান)। তবে মরগ্যানের ইনিংসটাই দু’দলের মধ্যে ফারাক গড়ে দেয়। তাঁর অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও ছ’টি ছক্কা। স্লগ ওভারে কামিন্স করেন ১৫ রান। মূলত মরগ্যানের সাহসী ব্যাটিংই মনোবল বাড়িয়ে দেয় নাইটদের। আর তার সফল প্রতিফলন ঘটিয়ে দলের স্বপ্ন আগলে রাখেন বোলাররা।
সূত্র : বর্তমান

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here