দেশের প্রথম ‘হাইব্রিড সোলার উইন্ড টাওয়ার’ হাতিয়ায়

5

অনলাইন ডেস্ক : দেশে প্রথমবারের মতো ‘হাইব্রিড সোলার উইন্ড টাওয়ার’ সুল্যশন স্থাপন করল সমন্বিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবা কোম্পানি ‘ইডটকো বাংলাদেশ’। ৭৫ মিটার লম্বা টাওয়ারটি স্থাপন করা হয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত দ্বীপ হাতিয়ায়।

প্রত্যন্ত এই দ্বীপটিতে কোনো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় এবং তীব্র জোয়ারের ঝুঁকির কারণে এই এলাকার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করাও খুব কঠিন।

নবায়নযোগ্য এই এনার্জি সল্যুশনটি বাংলাদেশে এবারই প্রথম তৈরি হল। বিশেষতঃ দেশের যেসব এলাকা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেসব এলাকায় প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই এটি তৈরি করা হয়েছে।

ইডটকোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উদ্ভাবনী, টেকসই এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সল্যুশন স্থাপনের মাধ্যমে টেলিকম টাওয়ারগুলোতে বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে যে প্রচেষ্টা ইডটকো চালিয়ে যাচ্ছে, এই উদ্যোগটি তারই অংশ।

এতে বলা হয়, উদ্ভাবনীমূলক এই টাওয়ারটি একটি স্থায়ী গ্রিন হাইব্রিড এনার্জি সল্যুশন দিয়ে গঠিত, যার সর্বোচ্চ ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার থেকে দৈনিক প্রতি ঘণ্টায় ৪২ কিলোওয়াট এবং টাওয়ারের মাথায় বসানো ৪ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বায়ু ঘূর্ণিযন্ত্র থেকে দৈনিক ঘণ্টায় ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। এভাবেই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করার মাধ্যমে হাইব্রিড পাওয়ার প্ল্যান্টটি টেলিকম সিস্টেমকে সারা বছর সক্রিয় রাখে।

নবায়ণযোগ্য এই এনার্জি সল্যুশনটি ডিজেলের ব্যবহার কমানোসহ সার্বিকভাবে টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রকৃতিবান্ধব এই সল্যুশনটি শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত কম কার্বন নিঃসরণ করে।

৩৬০ ডিগ্রি কোণ থেকে বাতাস ধরার জন্য উলম্ব অক্ষের উইন্ড টারবাইনটি চাহিদা অনুযায়ী শক্তি পরিমাপ করতে পারে। এর যন্ত্রাংশ লাগানোসহ সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ তুলনামূলক সহজ। এ ছাড়া পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে কম খরচ হয় এবং পরিবেশবান্ধব।

টাওয়ারটি সম্পর্কে ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিকি স্টেইন বলেন, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, যে কোনো দূরবর্তী অবস্থান কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থার সব জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ইডটকো কাজ করে। কোম্পানির নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আমরা এটা করে থাকি। আর এ ধরনের সল্যুশন আমাদেরকে ওইসব সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সংযোগের আওতায় আনার সুযোগ করে দেয়, সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য যাদের এটি ভীষণ প্রয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here