পাবনায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশে আমরা বিক্ষুব্ধ: ফখরুল

5

অনলাইন ডেস্ক : ড্যাবের চিকিৎসক সমাবেশে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে ২৪ বছর আগে গুলির ঘটনায় ৯ জনকে ফাঁসির আদেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘পাবনায় যে রায় দেওয়া হয়েছে, এতে গোটা জাতি বিস্মিত হয়েছে। ২৪ বছর আগে ট্রেনে দুটি গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। কে ছুড়েছে, কয়টি ছুড়েছে তার কোনও প্রমাণ নেই। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে আমরা শুধু হতাশ নই, বিক্ষুব্ধ।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এ দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরও বলেন, ট্রেনে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওইদিন আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় ট্রেনে এ গুলি লাগে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটা অর্থনীতি ফোরামের দাওয়াতে গেছেন, চীনের সরকারের দাওয়াতে যাননি। আমরা খুব খুশি হতাম, তিনি যদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসে কাজটি করতেন, কিন্তু তিনি তা করছেন না। তিনি চুক্তি করেছেন, মেগাপ্রজেক্ট, মেগা দুর্নীতির চুক্তি। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় বলে বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। তারা ক্যান্টনমেন্টের দল। কিন্তু তারা একবারও বলে না এরশাদের আমলে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন- এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যে যাবে সে হবে জাতীয় বেঈমান। কয়েকদিন পর তিনি এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেছেন। আমরা এগুলো ভুলে যাইনি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিটি সময়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি তা করে যাচ্ছেন। এখন যে কারাগারে আছেন এটাও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের মামলায় সবাই জামিন পান। শুধু খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়ার উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে। ব্যারিস্টার মঈনুল হক জামিন পেয়েছেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জামিন পেয়েছেন।’

ড্যাবের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here