প্রিয়া সাহার শাস্তি দাবিতে হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ

5

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : প্রিয়া সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানিয়েছে ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ২২ জুলাই সোমবার যুক্তরষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের সামনে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। একইসাথে তাকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দাবিও উঠেছে।

১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু গুম হয়েছে। এমনকি তার নিজের বাড়িতেও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তার ভিটে-মাটিও দখলে নিয়েছে। এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রবাসীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সকলেই প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ধরনের জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে হেয়-প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে’-এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া।
মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ২২ জুলাইয়ের এই বিক্ষোভ সমাবেশে ছিলেন মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরল আমিন, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আযম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক এম নবী বাকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, যুবলীগ নেতা রাবিউল ইসলাম রাজু, সহ সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক সাজ, সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, আলমগীর, সেতু।

এছাড়াও গ্রেটার ওয়াশিংটন বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি করিম সালাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু সরকার উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে প্রিয়া সাহার ভয়ংকর মিথ্যা তথ্য প্রদান করার তীব্র নিন্দা ও ঘৃনা জানানো হয়। উল্লেখ করা হয় যে, প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলারও তা সত্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প এর কাছে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রিয়া সাহা দেশদ্রোহী কাজ করেছেন। তার বক্তব্য শুধু বাংলাদেশকে নয়, বাঙ্গালী জাতি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করেছে। বক্তারা আরো বলেন, প্রিয়া সাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। তিনি তার যে দুই মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী তাদের নাগরিকত্ব পেতে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি মিথ্যাচার করে তার দুই মেয়ের নাগরিকত্ব নেওয়ার পথ পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিজেরও গ্রীনকার্ড প্রাপ্তির পথ সুগম করতে চেয়েছেন। বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এটি যাদের সহ্য হচ্ছে না, সেই জামাত-শিবির আর বদর-রাজাকারের পারপাস সার্ভ করতেই প্রিয়া সাহা সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদাঙ্ক অনুসরন করেছেন।

এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রিয়া সাহা নিউইয়র্কেই অবস্থান করছেন। তবে কারো সাথেই কথা বলতে চাচ্ছেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের কারো সাথে কথা বলতেও নারাজ বলে তার এক আত্মীয় জানান। তবে শীঘ্রই তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সাথে দেখা করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় নাম গোপন রাখার শর্তে ২২ জুলাই এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here