ফেসবুকে সমালোচনা, ছবি সরিয়ে নিলেন ওবায়দুল কাদের

15

অনলাইন ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বরাবরই সক্রিয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রায় প্রতিদিনই নিজের বিভিন্ন কাজের ছবি ফেসবুকে দিয়ে থাকেন। এবার জাতীয় শোক দিবসের দিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবি পোস্ট করেন। তবে এ নিয়ে সমালোচনা হলে পরে তা সরিয়েও নিয়েছেন।

অবশ্য নিজর ফেসবুক থেকে ছবি সরিয়ে ফেলার আগে ওই ১৫টি ছবির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ভবন এলাকায় নিজের বাসভবনের ভেতরে–বাইরে ছবিগুলো তুলেছিলেন ওবায়দুল কাদের। কালো পাঞ্জাবি, এর ওপরে কালো কটি এবং সাদা পায়জামা পরা। শিরোনাম দেন ‘ট্রিবিউট টু বঙ্গবন্ধু ১৫ আগস্ট ২০২০’।

কালো সানগ্লাস পরে বিভিন্ন ভঙ্গিমার এই ছবি দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমালোচনার শিকার হয়।

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারসহ ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। শোকের দিনে কালোব্যাজ ধারণ, কালো পোশাক পরিধান পরে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকেই ওবায়দুল কাদের অনেকটা ঘরবন্দী হয়ে আছেন। বাইপাস সার্জারিসহ নানা শারীরিক জটিলতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তাঁকে বাসায় অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বাসায় থেকেই তিনি প্রায় প্রতিদিন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে গণমাধ্যমে সরকার ও দলের বক্তব্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাসায় বসে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বিআরটিএসহ অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভিডিও সংযোগে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দলের নেতাদের সঙ্গেও ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন প্রায়ই। এর মধ্যে মাঝেমধ্যে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরেও গেছেন। বাসা ও দপ্তরের প্রতিটি কর্মকাণ্ডেরই বহু ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন তিনি। এসব ছবি এখনো আছে। আর আগে এভাবে ছবি সরিয়ে নিতে দেখা যায়নি।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরের ব্যবহারের একাধিক দামি ঘড়ি নিয়ে নিউজ করে বিদেশি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। ফেসবুকে ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া ঘড়িসহ সেই ছবি দিয়েই ওই পোর্টাল প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

২০১৮ সালের ২৫ জুন ‘চ্যালেঞ্জিং টাইম অ্যাহেড’ শিরোনাম দিয়ে তাঁর অফিসকক্ষে তোলা ছবি ফেসবুকে দেন ওবায়দুল কাদের। এই ছবি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। এর আগে একবার চীন সফরে গিয়ে সুইমিং পুলে খালি গায়ের ছবি দিয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওবায়দুল কাদের জুতা, পোশাক-আশাক ও ঘড়ির ব্যাপারে বেশ শৌখিন। বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিহিত অবস্থায় নানা ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে তিনি পছন্দ করেন। তাঁর ব্যবহৃত পোশাক-আশাকের বিষয়টি নিয়ে পরিচিত মহলে আলোচনা করেন।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা বলেন, নানা ভঙ্গিমার ছবি তোলা ও ভিডিও করা জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক আছে। ছবি ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েই আপলোড করা হয়। তিনি সবকিছুর খবর রাখেন। আজ শোক দিবসের ছবিতে হাসি হাসি ভাব দেখা যাওয়ায় এবং পোজ দেওয়ার কারণে সমালোচনা হয়েছে। এটা বুঝতে পেরে মন্ত্রীর নির্দেশেই ছবি সরিয়ে ফেলা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here