বাংলাদেশ সোসাইটি : মামলা রি–ওপেন হচ্ছে, নির্বাচন অনিশ্চিত

4

অনলাইন ডেস্ক : আমেরিকায় অভিবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনগুলোর ছাতা সংগঠন হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে দায়ের করা মামলা খারিজ হওয়ার পর সংগঠনের সদস্যরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন। শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশা করছিলেন। নির্বাচন কমিশনও যত দ্রুত সম্ভব দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঠিক করার ঘোষণা দিয়েছিল। সপ্তাহ না ঘুরতেই আবার আশা–নিরাশার দোলাচলে সংগঠনের সদস্যরা। কারণ সংক্ষুব্ধরা মামলাটি রি–ওপেন বা আবার চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাঁরা বলছেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা লড়ে যাবেন। এ অবস্থায়সহসা নির্বাচন হচ্ছে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এ লক্ষ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে দুটি শক্তিশালী প্যানেল। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৪০ জন। একটি প্যানেলে নেতৃত্বে ছিলেন ‘রব-রুহুল’, অন্যটির ‘নয়ন-আলী’। এ ছাড়া সভাপতি পদে সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল মোমেন (সোহেল) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী জেড আর চৌধুরী লিটু ও আলী আকবর বাপ্পির মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় ৩৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৩। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন তাঁরা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতে আরেকটি মামলা করেন সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী। মামলার আরজিতে তিনি সোসাইটির ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণের বিষয়ে নানা অভিযোগ এনে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কুইন্স কাউন্টি আদালতে দায়ের করা মামলায় ওসমান চৌধুরী বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তাদের বিবাদী করেন। ওসমান চৌধুরী নিজেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি আর মনোনয়নপত্র জমা দেননি। আদালতের হস্তক্ষেপে নানা নাটকীয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে সোসাইটির ব্যয়বহুল নির্বাচন স্থগিত হয়ে পড়ে।
প্রায় এক বছর ধরে শুনানি শেষে ৮ জুলাই আদালত মামলাটি খারিজ করেন। তবে আদালতের রায়ে মামলাটি রি-ওপেন করার সুযোগের কথা আছে। এ সুযোগে সংক্ষুব্ধরা আবারও মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এতে মামলায় জড়িয়ে পড়া সোসাইটির দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন প্রবাসীরা।
ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সোসাইটি, নির্বাচন কমিশন ও দুটি প্যানেল প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ৮ জুলাই আদালতের রায়ের পরে নির্বাচন কমিশন আবার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সোসাইটির কার্যকরী পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও নির্বাচন কমিশন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী দুটি প্যানেল দীর্ঘ বিরতির পর আবার দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। শুরু করে মিটিং–মিছিল।
মামলার বাদীরা বলছেন, যেহেতু আদালত মামলা রিওপেনের সুযোগ রেখেছেন, তাই তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া অবদি লড়ে যাব। ইতিমধ্যে মামলার তিনজন বাদী তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিস্তারিত জেনে তাঁরা আবার মামলা রিওপেন করার পক্ষে আইনজীবীদের কাছে মতামত দিয়েছেন। আইনজীবীরা আবার মামলাটি চালু করার বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আবার মামলা চালু হলে, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। মামলার রায় না হওয়া অবদি নির্বাচন হবে না—এটাই বাস্তবতা।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামাল আহমদ জনি বলেন, ‘মামলার নতুন কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। যদি মামলা রিওপেন হয়, তবে আমাদের আইনজীবীরা মামলা চালিয়ে যাবে।’
সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদ বর্তমানে অসুস্থ। সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, মামলার ব্যাপারে এখনো আদালত থেকে কোনো নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলেই কার্যকরী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here