বাইডেনের দলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা

7

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন নির্বাচনে জয় পাওয়া জো বাইডেনের দলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক একাধিক সদস্য। পরাজয় মেনে নেয়া নিয়ে ট্রাম্প যেভাবে লাগাতার অনীহা প্রকাশ করে আসছেন তাই এই কর্মকর্তাদের হতাশ করেছে। তারা মনে করছেন, জো বাইডেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা দেশের জন্য তাদের কর্তব্য। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।

খবরে জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জো বাইডেনের জয় ঘোষিত হয়নি। যদিও প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধানেই জয়ী হয়েছেন তিনি। এ জয় এখনো মেনে নিচ্ছেন না প্রতিদ্বন্দ্বী ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের প্রথম থেকেই ট্রাম্প এই নির্বাচনকে কারচুপির নির্বাচন বলে দাবি করে আসছে। এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেকে জয়ী বলে দাবি করছেন তিনি।

অপরদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা না করায় তার কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়াও শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে, বাইডেন ও তার দল এখনো ফেডারেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন প্রশাসনের সরকারি নিয়োগে অর্থায়ন ও গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অনুমতি পাচ্ছেন না।

সিএনএনকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাম্পের এক সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাইডেনের সঙ্গে গোপনে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে দেশের জন্য তাদের কর্তব্য। বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর যেসব সমস্যার মুখে পড়তে পারেন সেসব বিষয়েই সাহায্য করছেন তারা। সিএনএনকে আরেক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনে যে পদে কাজ করেছেন, বাইডেনের প্রশাসনে সেই পদে যিনি কাজ করতে আসবেন তাকে তিনি ইমেইলের মাধ্যে সাহায্য করতে চান। বর্তমান কর্মকর্তারাও অনানুষ্ঠানিক এ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এক কর্মকর্তা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি এমন কিছু যা আমাদেরকে সমস্যায় ফেলবে না। সাহায্যের জন্য কেবল একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা জানেন আমরা কী বোঝাতে চেয়েছি। আমরা কী করতে পারি, কী করতে পারি না বা বলতে পারি না- তা তারা জানেন। তবে তিনি জানান, যোগাযোগের পর এখনও পর্যন্ত বাইডেনের দলের সঙ্গে তাদের তেমন কোনো কথোপকথন হয়নি।

অন্য আরেক উপদেষ্টা এই যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও কী ধরণের যোগাযোগ হচ্ছে তা স্পষ্ট করেননি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন বাইডেনের সহযোগিরাও। তারা বলছেন, আমরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করি। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আগের সম্পর্কের কারণেই তারা নিজেরা যোগাযোগ করেছেন। তবে, ক্ষমতার হস্তান্তরের যে ঐতিহ্যগত পদ্ধতি সেটার সঙ্গে তুলনা করলে এ যোগাযোগ তেমন কার্যকর কিছু না। বাইডেনের ডেপুটি ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ও ট্রানজিশন অ্যাডভাইজার কেট বেডিংফিল্ড সিএনএনকে বলেছেন, সাবেক কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসার চাইতে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে আরও বেশি কিছু করা প্রয়োজন। জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উচিত আইন মেনে চলা এবং নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া যাতে আমেরিকানরা দুই প্রশাসনের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর হস্তান্তর দেখতে পান।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সিএনএন ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা করে আসছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চাইছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ফেডারেল এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তাদের বাইডেনের দলের কারো সঙ্গে যোগাযোগ না করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মার্কিন ‘হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস’ এ বিষয়ে বুধবার একটি নির্দেশনাও জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাইডেনের দলের কেউ যদি যোগাযোগ করতেও চায় তাহলে যেনো তা ডেপুটি সার্জনকে জানানো হয়। সেক্রেটারি অ্যালেক্স আজারও বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যতদিন না জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আনুষ্ঠানিকভাবে বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা না করছে ততদিন কর্মকর্তারা বাইডেনের দলের সঙ্গে কোনো ধরণের যোগাযোগ রাখবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here