বেলারুশে উত্তাল বিক্ষোভ, সামরিক সহায়তার প্রস্তাব পুতিনের

4

অনলাইন ডেস্ক : বেলারুশে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে আলেকজান্ডার জি লুকাশেঙ্কোর ২৬ বছরের শাসনের মেয়াদ বাড়ানোর জের ধরে দেশটিতে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ করছে।

দুই লাখের বেশি বিক্ষোভকারীর এ প্রতিবাদ দমাতে ও আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সামরিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমস ও বিজনেস ইনসাইডারের।

লুকাশেঙ্কো জানিয়েছেন, পুতিন তাকে বলেছেন যে ‘প্রথম অনুরোধে রাশিয়া বাহ্যিক এ হুমকির ঘটনায় বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তা প্রদান করবে।’ আর ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছেন, লুকাশেঙ্কোকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন।

এদিক বেলারুশে নজিরবিহীন এ বিক্ষোভ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শত শত বিক্ষোভকারীকে মারধর বা আহত করা হয়েছে।

তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মঘটে কয়েক হাজার শ্রমিক তাদের চাকরিতে ফিরে যেতে অস্বীকার করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন।

সাবেক সোভিয়াত ইউনিয়নভুক্ত এই দেশটিতে আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো ১৯৯৪ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় আছেন। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ গত ৯ আগস্টের নির্বাচনে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে জানায়, তিনি ৮০.১% ভোটের ব্যববধানে জয় পেয়েছেন।

বিরোধী দলগুলো এই ফল প্রত্যাখান করে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এই সপ্তাহান্তেও আরও প্রতিবাদ বিক্ষোভের পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। প্রধান বিরোধীদলের নেত্রী সভেতলানা টিখানোভস্কায়া সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সাত ঘণ্টা আটক অবস্থায় থাকার পর মুক্তি পেয়েই তিনি পালিয়ে গেছেন লিথুয়ানিয়ায়।

বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মম আচরণে তা সহিংস হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কয়েক ডজন ভিডিওতে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লাথি মেরে ও টেনে নিয়ে যাচ্ছে, মারধর করছে।

বিক্ষোভে যেভাবে মানুষ অংশ নিচ্ছে, তা অভূতপূর্ব। বহু নগরী, শহর ও গ্রামে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা গত রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী সভেতলানা টিখানোভস্কায়াকেই বিজয়ী ঘোষণার দাবি জানাচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here