ভারত-পাকিস্তান গোলাগুলি ‘নিহত ১০’

13

অনলাইন ডেস্ক : নিহত ৩ পাকিস্তানী সেনা কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে গুলিবিনিময়ে উভয়পক্ষের অন্তত আট সেনাসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ভারতের পাঁচজন ও পাকিস্তানের তিনজন সেনা রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে দুই বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও দ্য টেলিগ্রাফ। খবরে বলা হয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বৃহসপতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬:১৪ মিনিটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ কাফুরকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান পরিস্থিতি থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে লাইন অব কন্ট্রোল সংলগ্ন অঞ্চলে গোলাগুলি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এতে তিন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় পক্ষের গুলির জবাবে পাল্টা গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

এতে পাঁচ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে। একাধিক বাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে।

পরবর্তীতে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এক টুইটে জানায়, ভারতীয় সেনা নিহতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এদিকে, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছে, দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ই আগস্ট ভারত জম্মু ও কাশ্মীরকে সাংবিধানিকভাবে দেয়া বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়। এতে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ সুবিধা হারায় রাজ্যটি। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জানায় যে, রাজ্যটি ভেঙে দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হবে। ৪ঠা আগস্ট থেকেই সেখানে ইন্টারনেট, মোবাইলসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের আটক ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়ে বহির্বিশ্ব থেকে রাজ্যটিকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ সেনা। কাশ্মীর ইস্যুতে বহু আগ থেকেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান ও ভারত। পূর্বে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধ হয়েছে। উভয়পক্ষই কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ভারতের সামপ্রতিক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। পাক-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে লিখেছেন, পাকিস্তান কোনো সংঘর্ষের উস্কানি দিতে চায় না।

কিন্তু আমাদের সংযমকে দুর্বলতা ভেবে ভুল করা উচিত নয় ভারতের। ভারত যদি ফের বলপ্রয়োগের রাস্তা বেছে নেয় তাহলে পাকিস্তানও আত্মরক্ষার খাতিরে সর্ব সক্ষমতায় তার জবাব দেবে। নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ব্যাপারে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তাদের আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছে চীন। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গুলিবিনিময়ের এই ঘটনা কাশ্মীর নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বৃহসপতিবার ভারতে উদ্‌যাপিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়া প্রসঙ্গে মোদি বলেছেন, কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসনে থাকায় সেখানে দুর্নীতি ও স্বজন পোষণ বেড়েছে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্যাতন বেড়েছে। এখন থেকে সব ভারতীয় বলতে পারবে, এক জাতি এক সংবিধান।
এদিকে, এদিন ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে ‘কালো দিন’ হিসেবে উদ্‌যাপন করেছে পাকিস্তান। এদিন পাক-প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুসলিম বিশ্ব যদি ভারত শাসিত কাশ্মীরে চলমান নির্যাতন উপেক্ষা করে তাহলে সেখানে মৌলবাদ ও সহিংসতা বাড়বে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here