মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে সদস্য করা হবে না

5

অনলাইন ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী অথবা সামপ্রদায়িক মনোভাব সম্পন্ন কাউকে আওয়ামী লীগের সদস্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেন, এক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তানদের বেলায়ও আওয়ামী লীগের অবস্থান একই। আওয়ামী লীগের এ বিষয়ে একটা নীতিমালা আছে, দলের চেতনা আছে। এই চেতনার সঙ্গে কোনও আপোষ নাই। গতকাল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২১শে জুলাই থেকে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হচ্ছে। গত সপ্তাহে আপনি বলেছেন পরিবারে কেউ যুদ্ধাপরাধী বা জামায়াত থাকলেও সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটা বাধা হবে না- জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘না, এ কথা আমি বলতে পারি না। নো, আমি বলিনি।

আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ স্বাধীনতার আদর্শ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্মের চেতনার পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, স্বাধীনতাবিরোধীদের মনোনয়ন দেয়া, এদের সদস্য করা-এ ব্যাপারে দলের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এখানে আপোষকামিতার প্রশ্নই ওঠে না।’ যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবেন কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী পরিবার হলে সেখানে আমরা সদস্য সংগ্রহ করি না। তারা সদস্য পদ নিতে পারেন না। এটা সদস্য সংগ্রহ অভিযানের যে নীতিমালা সেখানে স্পষ্ট বলা আছে। আমি নতুন করে কোনো বক্তব্য রাখতে পারি না।

এটা আমাদের পুরনো স্ট্যান্ড এবং এই স্ট্যান্ডে আমরা অটল। তিনি বলেন,‘সামপ্রদায়িক শক্তি যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে থাকা পরিবারের কেউ যদি আসতে চায় আমাদের তো প্রশ্ন থাকবেই। এখানে আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্ন। এখানে আমরা আপোষ করতে পারি না। ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন যে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে এর মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধী কেউ আওয়ামী লীগে আসতে পারবে না। বিএনপির কেউ যদি আওয়ামী লীগে আসতে চায় তবে অবস্থান কি হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা বিএনপি থেকে আসতে চায় সেই ব্যাপারেও দলের অবস্থান, নীতিগতভাবে আমরা চিন্তা-ভাবনা করেই ঠিক করি। অন্য কোনো দল থেকে আসলে আমরা সামপ্রদায়িকতার বিষয়টা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সামপ্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা যাদের দেখি, তারা জামায়াত হোক বিএনপি হোক একইভাবে দেখি। অনুষ্ঠানে গ্রামীণ ও চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প এলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন ওবায়দুল কাদের। গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণের ৩/৪ দিন পরই বেহাল অবস্থা হয়-এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটার একটা সমস্যা আছে। সারাক্ষণ যেভাবে হেভি ট্রাফিক ভলিউম, গ্রামের রাস্তাতেও যেভাবে ভারী পণ্য ব্যবহার করে সে কারণে রাস্তা ঠিক থাকে না। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে, একনেক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে যাতে রাস্তাগুলো সাসটেইনেবল হয়, টেকসই হয়।

মেনটেইনেন্সের বরাদ্দটা আরো বাড়ানো। উচ্চ পর্যায়ে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে। পদ্মাসেতুর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নে সেতুমন্ত্রী বলেন, টার্গেট ঠিক রাখা যায় না, পদ্মানদী খুব বেশি আনপ্রেডিকটেবল। ইদানীং আমাজনের চেয়েও এটা আরো আনপ্রেডিকটেবল। এমনকি সারা পৃথিবীতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পদ্মা নদীর সয়েল কন্ডিশনও প্রেডিকটেবল না। সে কারণে আমরা শুরুতে বারবার বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছিলাম, ব্যাড ওয়েদার হলে টার্গেট অ্যাচিভ করতে পারছিলাম না। তবে এ সংকট এখন আর নেই। এখন আমাদের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া খুব বেশি বৈরী না হলে পিয়ারের উপরে স্প্যান বসানোর কাজটি কঠিন নয়। পদ্মাসেতু নিয়ে এখন আর কোনো অনিশ্চয়তার বিষয় নেই। হয়তো মাঝে মধ্যে ওয়েদারের কারণে সমস্যা হয়ে যায়, সময় ঠিক রাখা যায় না। কিন্তু কাজটি গতিবেগে চলছে ও আগের চেয়ে গতি পেয়েছে অনেক বেশি। কারণ স্প্যান ঘন ঘন বসছে এটা একটা আশার বিষয়। গত ২৫শে মে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর বসে পদ্মাসেতুর ১৩তম স্প্যান। এ স্প্যানটি বসানো অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। এটি বসিয়ে ১৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মাসেতু।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here