মোল্লার কাছ থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেতেন রাজ্জাক-শাবানা-মান্না-শাবনূর

5

বিনোদন ডেস্ক : ১৯৭২ সাল থেকে এফডিসিতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে আসছেন মোল্লা। রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীর, মান্না, সালমান শাহ, শাবনূর থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের এমন কোন তারকা নেই যে তার হাতের ঝালমুড়ি খাননি। কিন্তু ৪৯ বছর পর এই এফডিসি ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন মোল্লা। কারণ, বর্তমানে তিনি অসুস্থ, হাত-পা আগের মতো সচল নেই। এক হাত অবশ। অন্য হাত দিয়েই সাড়তে হয় কাজ।

মোল্লা জানান, ‘সেই ১৯৭২ সাল থেকে আমি এখানে ঝালমুড়ি বিক্রি করি। রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীর, মান্না, সালমান শাহ, শাবনূরসহ দেশের এমন কোনো তারকা নেই যে আমার মুড়ি খাননি। পাশাপাশি এফডিসির মসজিদে ইমাম হিসেবেও কাজ করেছি। এখন বয়স হয়েছে। ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। আগে বিক্রি করতাম ৩ কেজি মুড়ি আর এখন বিক্রি করি ১ কেজি মুড়ি। এই টাকা দিয়ে আমার ভাতের পয়সাই হয় না। তাই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে গিয়ে দোকান করার চিন্তা করেছি। এজন্য তো টাকার দরকার। আমার বাড়ি যাওয়ার কথা শুনে ছেলেরা এই আয়োজন করেছে। চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পীসহ চলচ্চিত্র কলাকুশলী আমাকে সহযোগিতা করছে।’

তার কথায়, ‘এফডিসিতেই কেটে গেছে প্রায় ৪৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকায় অনেক মায়া জন্মেছে। এই মায়া ছেড়ে আমি যেতে যাই নি। প্রথম অবস্থায় অনেক খারাপ লাগবে। কিন্তু এফডিসিকে আমি আমার নিজের ঘরবাড়ি মনে করি। যখন খারাপ লাগবে তখন আবার চলে আসবো।’

এফডিসির সুপরিচিত এই ঝালমুড়ি বিক্রেতার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মনোহারগঞ্জ থানার মির্জাপুর গ্রামে। তিন ছেলে ও তিনি মেয়ের জনক তিনি। ছেলে-মেয়েরা তারা তাদের সংসার নিয়ে আলাদা। ছোট ছেলেটা এখনো পড়া-লেখা করছে।

মোল্লাকে সু-সম্মানে গ্রামে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার জন্য আয়োজন করা হয় ‘মোল্লা যাবে বাড়ি, মোল্লা মুড়ি উৎসব’। শুক্রবার শুরু হয়ে ‘মোল্লা মুড়ি উৎসব’ চলবে রবিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারকা ও এফডিসির কলাকুশলীদের মোল্লাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এখান থেকে যে টাকা আসবে তা নিয়েই গ্রামে ফিরে যাবেন মোল্লা।

আগামী শনি ও রবিবার, বিকাল ৩টা- রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থায় (বিএফডিসি) এই আয়োজন করা হয়। উৎসব আয়োজনে রয়েছেন মাজহার বাবু, আহম্মেদ তেপান্তর, রাহাত সাইফুল, এ.এইচ.মুরাদ, আসিফ আলম, রঞ্জু সরকার, রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, আমরা চেষ্টা করছি সম্মানের সহিত মোল্লা ভাইকে বাড়িতে ফেরত পাঠাতে। তাই এই আয়োজন। আশা করি চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীরা শেষবারের মতো মোল্লার মুড়ি খেতে আসবেন। এবং বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here