ম্যাডামকে দেখলে চিনতেই পারবেন না: ফখরুল

8

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার ওজন কমে গেছে। তাঁকে দেখলে এখন চেনা যাবে না। খালেদার পছন্দ অনুযায়ী চিকিত্সার দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জিহ্বায় আলসার হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে খালেদা জিয়ার চার কেজি ওজন কমেছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘ইট ইজ ভেরি অ্যালার্মিং। আপনারা ম্যাডামকে দেখলে এখন চিনতেই পারবেন না। উনি শুঁকিয়ে এ রকম হয়ে গেছেন। উনি কিছুই খেতে পারছেন না।’

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা তুলে ধরে খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী দেশে বা বিদেশে তাঁর চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া এখন হুইলচেয়ার ও অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। প্রথম শ্রেণির কয়েদির সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। যেসব খাবার তাঁকে দেওয়া দরকার, তা দেওয়া হচ্ছে না। যেসব ফলমূল খাওয়া উচিত, সেগুলো তিনি ঠিকমতো পান না। বিএসএমএমইউতে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

জিহ্বায় আলসারের পাশাপাশি দাঁত ক্ষয় হয়েছে এবং কয়েকটি দাঁত তুলে ফেলা দরকার বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, ‘উনি (খালেদা) ডায়াবেটিসের তিনটা ওষুধ খাচ্ছেন, তারপরও কিছুতেই তা ২০-এর নিচে নামছে না। যেটা অত্যন্ত অ্যালার্মিং।’

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বিষয়টি দল, পরিবার ও দেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আচরণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here