যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক সঠিক পথে ফেরার প্রত্যাশা

3

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন ‘ক্রসরোডে’ বলে মন্তব্য করেছেন বেইজিংয়ের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, অনাকাঙ্খিত জটিল একটি পিরিয়ড শেষে এই সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরে আসবে। করোনা ভাইরাস ইস্যু, বাণিজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে এই সম্পর্কের বেশি অবনতি হয়েছে। তার প্রশাসন চীনের কয়েক ডজন কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে এসব কোম্পানির সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ আছে। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও অন্য রাষ্ট্রীয় মিডিয়াকে শনিবার সাক্ষাৎকার দেন স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনের বিষয়ে যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, তা উভয় দেশের স্বার্থের জন্যই ক্ষতিকর।
এটা বিশ্বের জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, তাই এখন উভয় পক্ষের সামনে সুযোগ এসেছে আশা নিয়ে সম্পর্কের নতুন জানালা খুলে দেয়ার এবং নতুন করে আলোচনা শুরু করার।

৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন জো বাইডেন। তিনি আগামী ২০ শে জানুয়ারি ক্ষমতা হাতে নেবেন। তার বিজয়ে ব্যাপকভাবে আশা জেগেছে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্থান ঘটবে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদে চার বছরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, তার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মাসে ওয়াং ই আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বাইডেন ওয়াশিংটনের চীনা নীতিতে বাস্তবিক উন্নতি ঘটাবেন এবং আগের অবস্থানে নিয়ে যাবেন। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বাণিজ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে চীনের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প অথবা বাইডেন কারো নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান ওয়াং ই। তিনি বলেন, চীন যে সামাজিক ও উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন যদি শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে তাহলে উভয় পক্ষের মধ্যকার সংঘাত সমাধান করা যাবে। তিনি আরো বলেন, আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মানুষ চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখে আতঙ্কিত। কিন্তু সবচেয়ে টেকসই নেতৃত্বের উচিত হবে নিজেকে অব্যাহতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া। এক্ষেত্রে অন্য দেশের অগ্রগতি আটকে দেয়া উচিত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি প্রথম দিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখার জন্য চীনকে দায়ী করেন। এর ফলে ব্যবস্থা গ্রহণ বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু ওয়াং ই বলেন, এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে সর্বোত্তম লড়াই করেছে চীন। এর মধ্য দিয়ে বাকি বিশ্বকে সতর্ক করা হয়েছে। তার ভাষায়, আমরা সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সবার আগে আমরা এই মহামারি সম্পর্কে রিপোর্ট করেছি। অধিক থেকে অধিক গবেষণায় দেখা যায় যে, এই মহামারি খুব সম্ভবত বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু হয়েছে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here