রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র

3

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরী। প্রায় ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত রাশেদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন করে বঙ্গবন্ধু খুনের অন্যতম এ আসামির আশ্রয়ের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি খুনি রাশেদের আশ্রয়ের মামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করতে শুরু করেছে।

শুক্রবার মার্কিন সাময়িকী পলিটিকো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাশেদের আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত পর্যলোচনা করার জন্য নথি চেয়ে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার। বলা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়ার শুরুর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের সুযোগ হারাতে পারে বঙ্গবন্ধুর এই খুনি। আর তা হলে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। দেশে ফেরত আসলে দণ্ড কার্যকর করা হবে এ খুনির।

অনেক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। মার্কিন কূটনৈতিকদের কাছেও রাশেদকে ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বারের এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবী।

রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবী মার্ক ভ্যান ডার হাউট পলিটিকোকে বলেছেন, তিনি বলেন, পরিষ্কারভাবে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন কেন তারা এটি করছে?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পরে ১৯৯৮ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে অন্য আসামিদের সঙ্গে পলাতক অবস্থায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০০৯ সালে উচ্চ আদালত ১২ জন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনের রায় কার্যকর হলেও রাশেদ চৌধুরীসহ বিদেশে পলাতক অন্যদের দণ্ড কার্যকর হয়নি। এসব ঘাতকদের বিদেশ থেকে দেশে নিয়ে নিয়ে দণ্ড কার্যকর করার জোরালো দাবি জানানো হচ্ছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশে বিচার থেকে খুনি চক্রকে রেহাই দেয় তৎকালীন সরকার। খুনিদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়। রাশেদ চৌধুরীকে জাপানে বাংলাদেশ মিশনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইনডেমনিটি আইন বাতিল হলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ খুলে যায়। অভিযুক্তদের বিচার শুরু হয়।

রাশেদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পান।

তিনি নাইরোবি, কুয়ালালামপুর ও ব্রাসিলিয়া দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওই বছরেই রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here