ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

3

অনলাইন ডেস্ক : সব ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের জীবন-মান উন্নত হলে, তারা ভালো থাকলেই একটা আঘাত আসার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করবেন, বাংলাদেশের মানুষের যখন একটু ভালো সময় আসে, মানুষ একটু ভালো থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, জীবন-মান একটু উন্নত হয় তখনই কিন্তু একটা আঘাত আসার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই সকলকে একটু সতর্ক থাকা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (জুলাই, ২০২০ থেকে জুন, ২০২৫) দলিলের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার প্রারম্ভিক ভাষণে এ কথা বলেন। গণভবন থেকে শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন তিনি। খবর বিএসএসের।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুণর্গঠন করে জাতির পিতা যখন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই দেশে ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায় সংঘটিত হয় বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে পা বাড়াচ্ছিলেন, দেশটা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে সেই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং তার সুফলও মানুষ পেতে শুরু করেছে, মানুষ একটু খুশি ও স্বস্তিতে, ঠিক সেই সময়ে কিন্তু ১৫ আগস্টের ঘটনাটা ঘটল। আমি জাতির পিতা, জাতীয় চারনেতা, ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং নির্যাতিতা মা-বোনদের স্মরণ করে সকলকেই এ বিষয়ে একটু সতর্ক করতে চাই।’

এ সময় সবার সহযোগিতায় সরকারের করোনা মোকাবেলার সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগলিক দিক থেকে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বড় এই দেশে আমরা করোনা মোকাবেলা করে তাকে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলায় আমরা যেমন নির্দেশনা দিয়েছি, প্রণোদনা দিয়েছি তেমনি ভ্যাকসিন প্রদানও শুরু করেছি। যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও এখনও আনতে পারে নাই।’

প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা চলার সময়ই এটি চালু হলে বাংলাদেশ যেন আগে পেতে পারে সেজন্য আগাম অর্থ দিয়ে বুকিং করে রেখেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। কেননা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যখনই অনুমতি দেবে ভ্যাকসিনটা যাতে দেশের মানুষকে পেতে পারে, তার সরকার সেটা করতে সক্ষম হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

এ সময় দেশবাসীর প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তারা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি এবং তাদের সেবা করার সুযোগটা পেয়েছি।’

তার সরকার, দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী এবং জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সবাই আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় দেশের কোভিড এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বের অর্থনীতি আজ স্থবির। অনেক উন্নত দেশ না পারলেও বাংলাদেশ আজ ভ্যাকসিন দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পেরেছে।’

‘৭৫ পরবর্তী স্বৈরশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এদেশে গণতন্ত্র কখনো অব্যাহতভাবে চলে নাই। জাতির পিতাকে হত্যার পর একর পর এক সামরিক শাসকরা দেশ চালিয়েছে। হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতিই দেশে চলেছে। এর সাথে অগ্নিসস্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবই আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এসব মোকাবেলা করেও আমরা অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। করেনাভাইরাস মোকাবেলাতেও আমরা সাফল্য অর্জন করেছি এবং করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন বিধায় এই করোনাভাইরাসের প্রভাব আর খুব বেশি আমাদের দেশে থাকবে না।’

এ সময় তিনি ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলার সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি স্মৃতিচারণ করে সেই মামলার আসামি ও হত্যাকাণ্ডের শিকার সার্জেন্ট জহুরুল হকের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আগেই আমরা অনুমোদন দিয়েছিলাম আর আজকে আমরা তার মোড়ক উন্মোচন করলাম। যার বাস্তবায়নও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

ভাষার মাসে সব ভাষা শহীদকে স্মরণ করে শেখ হাসিন বলেন, ‘দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করায় বছরের প্রতিটি দিনই কিছু না কিছু স্মৃতি আমাদের রয়ে গেছে। কাজেই, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাক, সুস্থ থাক এবং স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠুক- এটাই আমাদের একমাত্র কামনা।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here