সংক্রমণে শীর্ষে ভারত

2

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসে নতুন উপকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ভারত। দেশটিতে ভয়াবহ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। গোটা আগস্ট মাসের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গোটা বিশ্বে সংক্রমণে ভারত শীর্ষে রয়েছে। গত মাসে দেশটিতে প্রায় দুই মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ লাখ লোক সংক্রামিত হয়েছে। এই মাসটিতে মৃতের হারও অনেক, ২৮ হাজারের বেশি লোক মারা গেছে শুধু আগস্টেই। এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

ভারতে সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই ২০ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে। যদিও সংখ্যার দিক থেকে ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এর উপরে রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। আগস্ট মাসে গড়ে প্রতিদিন ৬৪ হাজার রোগী আক্রান্ত হয়েছে, যা এর আগের মাসের তুলনায় ৮৪% বেশি। এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেছে প্রতিদিন গড়ে ৪৭ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরীক্ষা বাড়ানো এবং গ্রামপর্যায়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। ভারতের চারটি রাজ্যে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। এগুলো হলো- উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খ-, ছত্তিশগড় ও উড়িষ্যা। এ ছাড়া দেশটিতে ভাইরাসের অন্যতম উপকেন্দ্র মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। শুধু এই রাজ্যেই প্রায় আট লাখ রোগী করোনায় শনাক্ত হয়েছে। তবে ভারতের সুস্থতার হারও তুলনামূলক বেশি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সব কিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (মাধ্যমিক পরীক্ষা) অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও এ পরীক্ষা স্থগিত করতে অভিভাবকরা আদালত পর্যন্ত গিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে অনড় রয়েছে।

এদিকে মহামারীর মধ্যে ভারতের অর্থনীতিতে ব্যাপক ধস নেমেছে। গত সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এপ্রিল-জুন সময়ে ভারতের অর্থনীতি ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ হারে সঙ্কুচিত হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ১৯৯৬ সালে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থনীতির পরিসংখ্যান প্রকাশ শুরুর পর এটাই জিডিপির সর্বোচ্চ সঙ্কোচন, যেটাকে আশঙ্কাতীত বলছেন অনেক বিশ্লেষক। জুলাই-সেপ্টেম্বরে অর্থনীতির এই সঙ্কোচন অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন তারা।

এর ফলে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে কবলে পড়তে পারে। ভারতের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমকে উদ্ধৃত করে আনন্দবাজার লিখেছে, এর ফলে দেশের জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ মুছে গিয়েছে বলা যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here