সবজিবাজারে গেলেই হতাশ ক্রেতারা

6

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাঁচাবাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবজির দাম। বাজারে বর্তমানে অধিকাংশ সবজির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। বেড়েছে শাকের দামও। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের ক্রেতারা। প্রতিদিন সবজির এমন ঊর্ধ্বমুখী দামে হতাশ তারা। সবজির তালিকা নিয়ে বাজারে গেলেও বাড়ি ফিরছেন একরকম খালি হাতে।

গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, রামপুরাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই মাত্রাতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, বরবটি ও উস্তার কেজি। গত সপ্তাহের মতো বাজারে বেগুন ও উস্তার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। কেজিতে নতুন করে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বরবটিও। গত সপ্তাহে যা ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকা।

আগের মতোই বাজারে ঝাল ছড়াচ্ছে কাঁচা মরিচ। ভালো মানের আড়াইশ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গাজর। চিচিঙ্গা, পটল আর ঢেঁড়শের দামও থেমে নেই। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া চিচিঙ্গার দাম বেড়ে এ সপ্তাহে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পটল ও ঢেঁড়শের দাম হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। গত সপ্তাহের মতো ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি, কাঁকরোল ও ধুন্দলের কেজি। কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি

৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। চালকুমড়োর পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং কাঁচা কলার হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আলুর দামও চড়া, প্রতিকেজি ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা। অধিকাংশ শাকের আটি এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকার ওপরে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, বৃষ্টি বন্যায় সবজির ক্ষেতের ক্ষতির কারণে এখনো দাম চড়া রয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতিদিন আড়তে সবজির ঘাটতি থাকছে। তাই দামও বেড়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির দাম এমনটাই চড়া থাকবে।

মালিবাগ এলাকার মগা হাজির গলির বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আবু সুফিয়ান বলেন, করোনায় বেতন-ভাতা, আয় কমেছে। অথচ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। আর কত! কম দামে মানুষ সবজি কিনে ভাত খেত, এখন সেটাও পারছে না। আলুর দামটা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এসব দেখার কেউ নেই, কোনো তদারকি নেই।

মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা ভ্যানচালক মো. আজগর আলী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। মাছ, মাংস কেনার সামর্থ্য নাই। বাজারে আসছিলাম সবজি আর শাকপাতা কিনতে। কিন্তু যা দাম, তাতে আর কিছুই কিনতে পারলাম না। শুধু ছোট একটা চালকুমড়া কিনে বাড়ি ফিরছি। আর কয়দিন পর আমাদের মতো মানুষরা না খেয়ে মরতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here