স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বরখাস্ত করা উচিত ছিল : ফখরুল

2

অনলাইন ডেস্ক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদত্যাগকারী মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বিচার ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করি এখানে শুধু মহাপরিচালকের পদত্যাগ নয়, মহাপরিচালকের বিচার এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। এটা অত্যন্ত যৌক্তিক একটি দাবি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদত্যাগ করেছেন এবং শোনা যাচ্ছে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে। আসলে তাকে তো বরখাস্ত করা উচিত ছিল। শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকই নন, এর সঙ্গে যারা যারা জড়িত আছেন, তারা জনগণকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তার দায়-দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের উপরে বর্তায়।’

করোনা প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর থেকে দলের কার্যক্রম তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন-সহযোগী সংগঠনগুলো সীমিত সাধ্যের মধ্য দিয়ে করোনা মোকাবিলার জন্য তারা মাঠে আছে এবং তারা যথেষ্ট কাজও করেছেন। এখন পর্যন্ত বিএনপি ত্রাণ বিতরণ করেছে ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ২৮০ পরিবারের মাঝে। এর সঙ্গে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ড্যাব করোনার শুরু থেকে জনসচেতনতামূলকসহ চিকিৎসাসেবার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সহযোগীগুলো ত্রাণের কাজ করে যাচ্ছেন।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এত চরমে পৌঁছেছে, অধিকাংশ কোভিড হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে। সরকারের আর্শিবাদপুষ্ঠদের কাছে করোনা যেন আর্শিবাদরূপে আবির্ভাব হয়েছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রি যেমন-পিপিই, মাস্ক, ওষুধ সরবারহ দিয়ে শুরু বলা যায়। এসব অনিয়ম কর্তৃপক্ষের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কি আদৌও আছে? করোনাকালেও স্বাস্থ্যসুরক্ষার সামগ্রির কেনাকাটায় দুর্নীতি চরমে। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না।’

ফখরুল বলেন, ‘করোনা মহামারির এই সংকটকালে পুরো জাতি যখন ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, সরকারি হিসাব মতেই দৈনিক প্রায় ৪০ জন করে করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের সামিল। স্বাস্থ্যখাতের জবাবদিহিতাহীন দুর্নীতির দায় সরকারেরই বহন করতে হবে।’

জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ও রিজেন্ট হাসপাতালের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকেই রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স অবৈধ জানা সত্ত্বেও হাসপাতালটিতে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসার জন্য সরকার কিভাবে চুক্তি করলো? ওই চুক্তি অনুষ্ঠানে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ কয়েকজন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালনকসহ আরও অনেকে উপস্থিতি ছিলেন বলে আমরা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে দেখতে পেয়েছি।’ এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার প্রটোকল নেই বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় করোনা সম্পর্কিত বিএনপির জাতীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সমন্বয়ক ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের হারুন আল রশিদ, আবদুস সালাম, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল ও ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল যুক্ত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here