বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ‘আন্তর্জাতিক টি-২০’

5

স্পোর্টস ডেস্ক : অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি’র বোর্ড সভা থেকে এসে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আগামী বছর মার্চে ১৮ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে ম্যাচ দু’টি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। এখানে অংশ নেবে এশিয়া অল স্টারস ও বিশ্ব একাদশ। তবে এই দু’টি ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি পেতে বিসিবিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আসলে আইসিসি’র মিটিংয়ে আমাদের জন্য দারুণ এক সুসংবাদ আছে। আগামী মার্চে যে দু’টি টি- টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল সেটিকে অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে অনুমোদন পেতে বেশ কষ্ট হয়েছে।

কারণ আইসিসি’র নিয়মে কোনো সদস্য দেশ ছাড়া অনুমোদন দেয় না। যেমন পাকিস্তান সদস্য দেশ ছিল তারা বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে খেলেছে। সেখানে পাকিস্তান সদস্য বলে অনুমোদন পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু আমরা আয়োজন করতে যাচ্ছি এশিয়া অল স্টার ও অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে। তাই এখানে কোনো সদস্য দেশ নেই। যে কারণে আইসিসি’র নিয়মের মধ্যে পড়ে না। যদিও বোর্ড সভাতে ব্যাপক আলোচনার পর বিশেষভাবে আমাদেরকে এই ম্যাচ আয়োজনের অনুমোদন দেয় আইসিসি। তবে তারা শর্ত দিয়েছে পরবর্তীতে কেউ এটিকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে এমন ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে না। এই বিশেষ অনুমোদন সত্যি আমাদের জন্য বড় পাওয়া।’
অন্যদিকে এই দু’টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তারকা ক্রিকেটারদের খেলাতে মরিয়া বিসিবি। তবে সেখানে কে কে খেলতে পারেন সেটি এখনো প্রকাশ করেনি বিসিবি। দু’টি ম্যাচই হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এ বিষয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘এখনো কারা খেলবে তা ঠিক হয়নি। এখানে এশিয়ান অল স্টার বলতে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি দল হবে। আর বাকি হলো এশিয়ার বাইরে সবক’টি দেশ। সাবেক তারকা ক্রিকেটার নয়, আমাদের নজর বর্তমান তারকা ক্রিকেটারদের ওপর। সেই ক্ষেত্রে যে দেশগুলো খেলবে তাদের ক্রিকেট সূচি ও ক্রিকেটাররা ফ্রি থাকবে কারা সেগুলো দেখতে হবে। যেহেতু ম্যাচ দু’টি আন্তর্জাতিক মর্যাদার সেই ক্ষেত্রে যারা এখানে খেলবে অবশ্য তারা সিরিয়াস হবেন।’
কেন বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়া কিংবা বিশ্ব একাদশের খেলার আয়োজন হলো না সেটিও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘দেখেন যদি আমি শুধু বাংলাদেশ একাদশের বিপক্ষে খেলা দেই সেটি নিয়ে আগ্রহ থাকবে কয়েকটি দেশের। কিন্তু এখানেতো আমরা সবগুলো দেশকে পাচ্ছি। এটির মান এবং চাহিদাও থাকবে আলাদা। এখানে সব তারকা খেলোয়াড় এলে যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসে তারা দেখবেন। এখানে যেটা আমরা চেয়েছি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর যে প্রচার সেটি কিন্তু ভালো ভাবে হবে।’

বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ছুটি জানতো না বিসিবি
বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দারুণ আশা নিয়ে গিয়েছিল। স্বপ্ন ছিল শেষ চারে খেলা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দারুণ শুরুর পরও টাইগাররা বিশ্বকাপ শেষ করেছে ৮ম স্থানে থেকে। তবুও গোটা বিশ্বকাপে টাইগারদের দারুণ খেলার প্রশংসার শেষ নেই। আইসিসি’র বোর্ড সভাতেও বিসিবি সভাপতি নিজেও সেই প্রশংসাতে ভেসেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রায় সবাই বলছে দারুণ খেলেছে টাইগাররা। এখন তারা সত্যিকার অর্থেই যে কোনো দলকে হারাতে পারে। এরপরও কেন প্রধান কোচ স্টিভ রোডসকে বিদায় দেয়া হলো! এ বিষয়ে নাজমুল হাসান কোচের কিছু ভুলের কথা তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের পাঁচদিনের ছুটি নিয়ে দারুণ অখুশি বোর্ড। আর এজন্য দায়ী করা হচ্ছে সাবেক প্রধান কোচকেই। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা (পাঁচ দিন ছুটি) সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আপনি বিশ্রাম দিতে চান দুই-তিনদিন দেন, সেটা ভালো। কিন্তু মনোসংযোগ কিন্তু চোখে মুখে চিন্তা-ভাবনায় শুধু খেলাটাই থাকা উচিত ছিল। এখন পর্যন্ত অত পরিণত হয়নি আমাদের দল যেটাকে দিলেও সব বাদ দিয়ে অনুশীলন করবে মাথায় রাখবে। আমরা উন্নতি যতই করি না কেন আরও পথ আছে। সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার যেটা সবাইকে বলে রাখি আমি জানিই না। এর আগে এমন কখনও হয়নি। সবারই ল্যাপস আছে এখানে এককভাবে কাউকে দোষ দেয়া হচ্ছে না। আকরাম ছিল সুজন ছিল ওরাও জানে না। ছুটি দেয়ার পর জানলে তো হচ্ছে না।

এবার লম্বা সময়ের কোচ চায় বিসিবি
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে বিসিবি। এরই মধ্যে অনেক কোচও আবেদন করেছেন। তবে কেমন কোচ চাচ্ছে বিসিবি আর কতদিনেই সেই কোচ পাওয়া যাবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এ বিষয়ে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘কোচ নিয়ে আমাদের প্রক্রিয়া চলছে। একজন কোচ তো না। একজন হচ্ছে হেড কোচ, তারপর ফাস্ট বোলিং কোচ দেখছি আমরা, ফিজিও আছে। আমরা এবার ঠাণ্ডা মাথায় বুঝেশুনে নিতে চাচ্ছি। শুধু নাম দেখে না বা অতীত অভিজ্ঞতা দেখে না এবার একটু বুঝেশুনে কোচ নিতে চাচ্ছি। অনেকের মতামত নিতে পারি তবে সিদ্ধান্ত এবারও আমরাই নিচ্ছি। কথাবার্তা চলছে অনেকের সঙ্গেই। নিজেরা পরখ করে নিয়ে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেবো। সাধারণত দেখা গেছে, বেশি একটু যদি নামিদামি কোচ আনতে চাই। তারা সাধারণত নরমাল নিয়মে আবেদন করে না। ওদের এজেন্ট থাকে ওই এজেন্টের মাধ্যমে কথা বলতে হয়। আবেদন জমা হয়েছে আবার আমরাও যোগাযোগ করছি। এবার আমরা চাচ্ছি লম্বা সময়ের কোচ। যেন ৪ বছর তিনি কাজ করতে পারেন এমন কেউ।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here